


প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে বিজেপির গোবলয়ের নেতারা এসে গিয়েছেন। তারাই এখন দলের হর্তাকর্তা, বিধাতা। পর্দার আড়াল থেকে রণকৌশল ঠিক করছেন। জেলা বিজেপির কার্যালয়ে তাদের জন্য নিরামিষ খাবারের ব্যবস্থা হচ্ছে। গোবলয়ের নেতাদের সাত্ত্বিক আহারে বিপাকে পড়েছেন মাছভাত খাওয়া জেলার বিজেপি নেতাকর্মীরা।
আসন্ন নির্বাচনে ‘মৎস বিরোধী’ কাঁটায় বিদ্ধ হয়ে গেরুয়া নেতারা ছটফট করছেন। প্রচারে বেরিয়ে নিত্যদিন তাঁদের মৎস্যপ্রীতির কথা তুলে ধরতে হচ্ছে। নেতাকর্মীদের মাছ খাওয়া নিয়ে প্রচার বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলায় আসা গোবলয়ের নেতাদের সঙ্গে অবশ্য স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাত পেড়ে নিরামিষ খেতে হচ্ছে। গোবলয়ের নেতারা উত্তর ভারতের তীর্থস্থানগুলিতে মাছ, মাংস বন্ধ করার কথা শোনাচ্ছেন। জেলার নেতাকর্মীদের মুখ বুজে সেই কথা শোনা ছাড়া উপায় থাকছে না। বিজেপির শাক দিয়ে মাছ ঢাকার এই নীতি দলের কর্মীদের অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও নেতাকর্মীদের একাংশ ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ক্ষোভের কথা বলছেন। জেলার প্রবীণ বিজেপি নেতারা এই বিষয়ে সংগঠনে ফাটলের আশঙ্কাও করছেন।
ররিবার কেন্দ্র সরকারের শিক্ষা, উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা দপ্তরের মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জেলা কার্যালয়ে বৈঠক করেন। অশোক মহান্তির মতো পুরনো দিনের নেতাদের উপেক্ষা করা নিয়ে বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বৈঠক শেষে জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে একসঙ্গে ভাত, ডাল, পোস্তর তরকারি, দই, চাটনি দিয়ে দুপুরের আহার সারেন। দিনের পর দিন নিরামিষ খাবার খেতে খেতে নীচুতলার কর্মীদের প্রাণ ওষ্ঠাগত। অনেকেই কার্যালয় থেক বেরিয়ে নিকটবর্তী হোটেল মাছভাত খেয়ে নিচ্ছেন। সঙ্ঘের দীক্ষিত বিজেপি নেতাদের আমিষ নিরামিষের দ্বন্দ্ব সামলাতে দোটানায় পড়তে হচ্ছে। শহরের এক বিজেপি কার্যকর্তা বলেন, উত্তর ভারত থেকে আসা নেতাদের জন্য হোটেলের খাবার আনা হচ্ছে না। দলের তরফ থেকে নিরামিষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলার যেসব নেতাকর্মীরা দেখভালের দায়িত্ব রয়েছেন, তাঁরাও স্বেচ্ছায় নিরামিষ খাবার খাচ্ছেন। জোর জবরদস্তির কোনো জায়গায় নেই। হয়তো কারও কারও কিছু সমস্যা হতে পারে।
জেলা তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতা বলেন, আসন্ন ভোটে বিজেপি নেতারা তাদের মাছপ্রীতি নিয়ে লম্ফঝম্প করছেন। কে কত মাছ ভালোবাসেন তা নিয়ে প্রচার করতে হচ্ছে। উল্টো দিকে বহিরাগত নেতাদের জন্য কিন্তু নিরামিষ আহারের ব্যবস্থাই করা হচ্ছে। সেটা লুকিয়ে রাখা যাচ্ছেন। বাংলায় এসে দু’- একটা কথা বলা আর বাংলার সংস্কৃতিতে ভালোবেসে আপন করার মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য রয়েছে। জেলা তৃণমূলের সভাপতি দুলাল মুর্মু বলেন, জঙ্গলমলের মানুষের এক নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে। সকল স্তরের মানুষ নিজেদের সংস্কৃতি, ভাষা ও খাদ্যাভাস নিয়ে এখানে বসবাস করেন। বিজেপি ধর্ম ও খাদ্য নিয়ে যে রাজনীতি শুরু করেছে জেলার মানুষ তা মেনে নেবে না।