


সমীর সাহা, নবদ্বীপ: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় গ্রামজুড়ে জ্বলছে ক্ষোভের আগুন। বিক্ষোভের মুখে পড়ার আশঙ্কায় কোনো বিজেপি নেতা ঢুকছেন না নবদ্বীপ ব্লকের মহিশুড়া গ্রামে। সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করছে তৃণমূল ও সিপিএম। এই গ্রাম থেকে ৪৫৩ জনের নাম বাদ গিয়েছে। গ্রামের প্রতিটি পরিবার থেকে একজন, দু›জন করে নাম বাদ যাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রামবাসীরা। তারা উন্মুখ হয়ে রয়েছেন বিজেপিকে ‹উচিত শিক্ষা› দিতে। ভোটের হাওয়া বলছে, সিপিএমের থেকে বেশ খানিকটা পাল্লা ভারী তৃণমূলের দিকে।
নবদ্বীপ গৌরাঙ্গ সেতু সংলগ্ন ঢালের রাস্তা দিয়ে মহিশুড়ায় ঢোকার প্রধান রাস্তার দু’ ধারে কিছু দূর অন্তর তৃণমূল, সিপিএম দু’ দলের দেওয়াল লিখন। পাশাপাশি কিছু দেওয়াল লিখন কংগ্রেসেরও। কিন্তু মহিশুড়ায় বিজেপির কোনো দেওয়াল লিখন চোখে পড়েনি। এই পঞ্চায়েতে বিজেপির তেমন একটা সংগঠনও নেই। মহিশুড়া পঞ্চায়েতের ১১টি বুথে রয়েছে মোট ১২ জন সদস্য, প্রত্যেকেই তৃণমূলের। এই পঞ্চায়েতের মোট ভোটার ৯,৮৮২ জন। তারমধ্যে সংখ্যালঘু ৬৩০০ জন। বাকি ৩৫৪২ জন হিন্দু।
দক্ষিণ পাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা মেহের আলি শেখ বলেন, বড় ছেলের নাম বাদ গিয়েছে। বউমার নাম আছে। বিজেপি পরিকল্পিতভাবে নাম বাদ দিয়েছে ক্ষমতায় আসার জন্য। কিন্তু সেই আশা পূরণ হবে না। মহিশুড়া গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় ফনু সরদারের চায়ের দোকানে বসেছিলেন মোতাহার, নুরুল ইসলাম, বাবুল শেখরা। তাঁরা বলেন, আমাদের তো নাম বাদ গিয়েছে। দোকান মালিকেরও নাম নেই। চায়ের দোকানে মালিক ফনু সরদার বলেন, ২০০২ এর ভোটার লিস্টে নাম ভুল ছিল, ফনুর জায়গায় খনু সরদার। সেজন্য নাম বাদ গিয়েছে। পরে আমি সংশোধন করে নিয়েছিলাম। আমার ডিজিটাল কার্ডও চলে আসে। যাবতীয় কাগজপত্র ঠিক আছে। ফনু সরদারের স্ত্রী মনোয়ারা বিবি বলেন, আমার নাম রয়েছে। স্বামীর নাম নেই। ওকে যদি ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠায় তবে আমিও ক্যাম্পে চলে যাব। নাহলে আমাদের খাওয়াবে কে? মহিশুড়া পঞ্চায়েতের খড়ের মাঠের বাসিন্দা রাজকুমার কুণ্ডু বলেন, রাস্তাঘাট, আলো সব হয়েছে। স্ত্রী লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছে। কিন্তু এখানকার একটা বড় সমস্যা পানীয় জল। ৬ মাস ধরে ট্যাপকলের লাইন এসেছে অথচ জল আসেনি। রাস্তার অপর প্রান্তে পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ট্যাপ কল থেকে জল আনতে হয়। মহিশুড়া পঞ্চায়েতের বাসিন্দা তথা নদীয়া জেলা পরিষদের সদস্যা আরজুবানু খাতুন বলেন, দলমত নির্বিশেষে মানুষ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প যেমন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কৃষকবন্ধু, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, বাংলার বাড়ি, যুবসাথী প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন। গ্রামের কেউ বাদ নেই। সেক্ষেত্রে এবারও অনেক বেশি ভোটে তৃণমূল প্রার্থী লিড পাবে। গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী বত্রিশশোর মত লিড পেয়েছিল। এবার প্রায় চার হাজার ভোট লিড হবে। এসআইআরে ইচ্ছাকৃত ভাবে সংখ্যালঘুদের নাম বেশি করে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান তথা নবদ্বীপের সিপিএমের এরিয়া কমিটির সদস্য হানিফ মণ্ডল বলেন, ভোট বাড়বে কি না বলতে পারব না। এই পঞ্চায়েতে মহিশুড়া পঞ্চায়েতের মাঝের চড়া, মহিশুড়া বুথ ছাড়া অন্যান্য বুথে আমরা লড়াই দিতে পারছি না। কালীনগর, মাঝের চড়া, সদগোপ পাড়া, ঘোষপাড়া এই ক›টি বুথে সিপিএমের সমর্থক নেই। তবুও এখানে বিজেপিকে কেউ ভোট দেবে না। গ্রামে বসবাসকারী মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা সিপিএম বা তৃণমূলকে ভোট দেবে। নবদ্বীপ বিধানসভার বিজেপির কনভেনর শশধর নন্দী বলেন, মহিশুড়া পঞ্চায়েত অধিকাংশ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা। সেখান থেকে সংখ্যালঘু ভাইয়েরা মোদিজির সঙ্গে থাকতে চাইছেন। এবার ওই পঞ্চায়েতে ভালো ফল হবে।