


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তামিলনাড়ু, কেরল, বাংলা। কোনও রাজ্য নিয়েই নিশ্চিন্ত হতে পারছে না বিজেপি। তামিলনাড়ুতে সর্বশেষ ধাক্কা এসেছে ভোটপর্ব শুরু হওয়ার এক মাস আগেই। ২০২১ সালে বিজেপি এআইএডিএমকের পাশাপাশি এনডিএ জোটের ছাতা আরও বৃহৎ করার লক্ষ্যে রজনীকান্তকে জোটে আনার চেষ্টা করেছিল। রাজনৈতিক দল গঠন করার কথা ঘোষণা করেও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে যান রজনীকান্ত। আর এক সুপারস্টার কমল হাসানের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত ডিএমকের সমর্থনে কমল হাসান রাজ্যসভায় এমপি হয়েছেন। ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা ভোটের আগে বহু চেষ্টা করেও সুপারস্টার বিজয়ের মন পেলেন না নরেন্দ্র মোদি। বিজয় স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি বিজেপি এবং এআইএডিএমকের সঙ্গী হবেন না। বলেছেন, আমি কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তির শরিক হতে পারি না। আমার দলের লক্ষ্য ও নীতি হলল সর্বধর্মসর্বজাতিসমন্বয়। তাই ক্ষমতার জন্য নীতিহীন হওয়া সম্ভব নয়। ফলে তামিলনাড়ু নিয়ে বিজেপি কিছুটা হলেও আশাভঙ্গ হয়েছে। যদিও কয়েকটি জনমত সমীক্ষা বলেছে যে, এবার তামিলনাড়ুতে এনডিএ জোট টক্কর দেবে ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে। কেরল নিয়ে বিজেপির কাছে স্পষ্ট বার্তা এসেছে যে, খুব বেশি হলে দুই থেকে চারটি আসন বিজেপি পেতে পারে। কেরলে এবারও ইউডিএফ বনাম এলডিএফই লড়াই হতে চলেছে। ইউডিএফ ক্ষমতাসীন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বাংলা নিয়ে প্রবল আশা এবং দাবি করা হলেও এই প্রথম কেন্দ্রীয় বিজেপিকে অনেক সতর্ক পদক্ষেপ করতে দেখা যাচ্ছে। তাৎপর্যপূর্ণ হল, নির্বাচন কমিশনের সক্রিয়তা প্রবল হলেও, এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সিগুলির তৎপরতা কম। কত আসন পাবে এবার দল, সেই দাবি এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে করেনি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সুতরাং অধরা তিন রাজ্য বাদ দিলে পড়ে থাকছে অসম এবং পুদুচেরি। এই দুই রাজ্যেই বিজেপি অস্বস্তিতে।
অসমের সমস্যা দলের মধ্যেই। হিমন্ত বিশ্বশর্মা নিজের পুরোনো দল কংগ্রেস থেকে একের পর এক নেতাকে বিজেপিতে নিয়ে এসে প্রার্থী করছেন, গুরুত্বও বাড়িয়ে দিচ্ছেন। যা নিয়ে আদি বনাম নব্য দ্বন্দ্ব চলছে বিজেপির অন্দরে।