Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দিল্লির পাঠানো প্রচারের টাকায় পকেট ভরাচ্ছেন বিজেপি নেতারা, অভিযোগ তুলে সরব বুথস্তরের নেতা-কর্মীরা

ভোট এলেই দিল্লি থেকে অঢেল টাকা আসে। কিন্তু, সেই টাকা বুথস্তরের কর্মীদের কাছে পৌঁছয় না। ঢুকে যায় নেতাদের পকেটেই

দিল্লির পাঠানো প্রচারের টাকায় পকেট ভরাচ্ছেন বিজেপি নেতারা, অভিযোগ তুলে সরব বুথস্তরের নেতা-কর্মীরা
  • ১৬ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজদীপ গোস্বামী, শালবনী: ভোট এলেই দিল্লি থেকে অঢেল টাকা আসে। কিন্তু, সেই টাকা বুথস্তরের কর্মীদের কাছে পৌঁছয় না। ঢুকে যায় নেতাদের পকেটেই। এমনই গুরুতর অভিযোগ তুলে এবার সরব হলেন শালবনী ব্লকের বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। ঘটনাটিকে ঘিরে গোটা এলাকা তোলপাড়। অসন্তোষ বাড়ছে দলের অন্দরেও। 

Advertisement

বিজেপির বুথস্তরের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, লোকসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে ব্রিগেড সমাবেশ—প্রায় সব ক্ষেত্রেই টাকা বণ্টন নিয়ে অনিয়ম হয়েছে। দিল্লি থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা এলেও তার বেশিরভাগটাই আত্মসাৎ করছেন নেতাদের একাংশ। এমনকী, ব্রিগেডে কর্মীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থেও থাবা বাসিয়েছেন তাঁরা। রবিবার ভোট ঘোষণা করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এরপর আরও বড় বড় কর্মসূচি গ্রহণ করবে বিজেপি। দু’একবার ব্রিগেড সমাবেশও হতে পারে। তখনও কি একই ঘটনা ঘটবে? এমন প্রশ্ন তুলে গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চললেও এবার তাঁদের চোখ খুলে গিয়েছে। হকের টাকা থেকে আর বঞ্চিত হওয়া যাবে না বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। এমনকি দলের নেতাদের এই মনোভাবের পরিবর্তন না হলে ‘দলের পরিবর্তনের’ প্রচার থেকেও সরে দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কর্মী-সমর্থকদের একটা বড় অংশ। 
এদিন বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি রাস্তার মোড়ে আড্ডা মারছিলেন কয়েকজন বিজেপি কর্মী।  একজন কর্মী এগিয়ে এসে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা চমকে দেওয়ার মতো। তিনি বলছিলেন, ‘লোকসভা ভোটের সময় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নেতারা। সেই মতো দিল্লি থেকে প্রচুর টাকা এসেছিল। কিন্তু, বুথস্তরের কর্মীদের হাতে কিছুই পৌঁছয়নি। লোকসভার সময় বুথ পিছু ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। তার  হিসেব এখনও মেলেনি। কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা থেকে বাঁচাতে সেই টাকা রাখা হয়েছিল বলে শুনেছি। অথচ, বিপদে সেই টাকা খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া লোকসভার সময় একটি বিশেষ ফর্ম পূরণের জন্য ২ হাজার টাকা করে নিয়েছিলেন নেতারা। সেই টাকারও কোনও হদিশ নেই।’ ওই কর্মীর আরও দাবি, গতকাল ব্রিগেড সমাবেশেও একই ছবি দেখা গিয়েছে। কর্মীদের ব্রিগেডে নিয়ে যাওয়ার জন্য দুপুরের খাওয়া বাবদ মাথাপিছু প্রায় ২৮৮ টাকা করে বরাদ্দ ছিল। কিন্তু বাস্তবে তাঁদের শুধু মুড়ি, ছোলা ও চানাচুর খাইয়ে ব্রিগেডে মোদি-দর্শন করানো হয়েছে।  
বিষ্ণুপুর পঞ্চায়েতের ওই কর্মীরা এমনও অভিযোগ করেছেন, ব্রিগেডগামী বাসে ৬০ জন বসার জায়গা থাকলেও ইচ্ছাকৃতভাবে কম কর্মীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যাতে বাকি কর্মীদের নামে বরাদ্দ টাকা আত্মসাৎ করা যায়। এর পিছনে তাঁরা নিশানায় রেখেছেন শালবনী ব্লকের বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিজেপির শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ সুকান্ত সামন্তকে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুকান্তবাবু। তাঁর দাবি, যারা অভিযোগ করছেন তাঁরা নিজেরাই মোদির সভায় কি গিয়েছিলেন? তাঁর কথায়, ‘প্রতি তিনজন কর্মীকে ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মুড়ি, ছোলা ও চানাচুর খাওয়ানো হয়েছে, এমন অভিযোগ সম্পূর্ণভিত্তিহীন।
বিজেপি কর্মীদের এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, ‘ক্ষমতায় আসার আগেই বিজেপি নেতাদের এই অবস্থা। ক্ষমতায় এলে ওরা যে কী করবে, তা সহজেই অনুমেয়। আসলে, এটাই বিজেপির সংস্কৃতি। সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করতেই এরা রাজনীতিতে এসেছেন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ