Bartaman Logo
৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হিরণ নয়, ‘সাজানো বাগান’ ফিরে পেলেন দিলীপ ঘোষ, খড়্গপুর সদরে উড়ল গেরুয়া আবির

‘সাজানো বাগান’ ছেড়ে যেতে সেদিন খুব কষ্ট পেয়েছিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। অকপটে সে কথা জানাতে দ্বিধাও করেননি তিনি।

হিরণ নয়, ‘সাজানো বাগান’ ফিরে পেলেন দিলীপ ঘোষ, খড়্গপুর সদরে উড়ল গেরুয়া আবির
  • ১৭ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মণিরাজ ঘোষ, খড়্গপুর: ‘সাজানো বাগান’ ছেড়ে যেতে সেদিন খুব কষ্ট পেয়েছিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। অকপটে সে কথা জানাতে দ্বিধাও করেননি তিনি। দেড় বছরের মধ্যেই তাঁর নিজের হাতে গড়া সেই ‘সাজানো বাগান’ ফিরিয়ে দিল দল। বাগানটি কতখানি তছনছ হয়েছে, সেটা আবার কতখানি সাজিয়ে তুলতে পারবেন, তা সময়ই বলবে। আপাতত, দলের প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই অকাল হোলি খড়্গপুর সদরে। গেরুয়া আবির খেলে দলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান দিলীপের একদা একদা সহযোদ্ধা, কর্মী-সমর্থকরা। এদিকে, নায়ক তথা নেতা হিরন্ময় চট্টোপাধ্যায় ওরফে হিরণ বিকেল পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয় ছিলেন। বিধায়কের মেয়াদকালে খড়্গপুর সদরে নানা উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়ে পোস্ট করছিলেন। প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই নীরব হিরণ। সম্ভবত তাঁকে অন্য কোথাও প্রার্থী করা হতে পারে বিজেপির একটি বিশ্বস্ত সূত্রের খবর। সন্ধ্যায় হিরণকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এখন রাস্তায়। প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে। নেটওয়ার্ক নেই। এখন কথা বলতে পারব না।’   

Advertisement

অবিভক্ত মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র দিলীপ। সংসদীয় রাজনীতিতে তাঁর উত্থান অবশ্য খড়্গপুর সদর থেকেই। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা তথা দীর্ঘদিনের বিধায়ক, মন্ত্রী জ্ঞান সিং সোহনপালকে ৬ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করেন দিলীপ। ২০১৯ সালে তিনি মেদিনীপুরের সাংসদ নির্বাচিত হন। তাঁর কাছে হেরে গিয়েছিলেন তৃণমূলের পোড়খাওয়া নেতা মানসরঞ্জন ভুঁইয়া। কিন্তু, ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে দলের ভিতর কাটাকুটির খেলায় নিজের এলাকা থেকে ছিটকে যান দিলীপ। তাঁকে বর্ধমান-দুর্গাপুরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু জিততে পারেননি। এ নিয়ে একাধিকবার ক্ষোভ প্রকাশও করেছেন তিনি। ছাব্বিশের হাইভোল্টেজ মহারণে আর সেই ভুল করেনি দল। সসম্মানে দিলীপকে ফিরিয়ে দিলীপের গড়েই। সিপিএম এই আসনে প্রার্থী করেছে মধুসূদন রায়কে। তৃণমূলের প্রার্থী কে হবেন, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। 
‘অন্য দলের যিনিই প্রার্থী হন, আমরাই খড়্গপুর সদরে জিতব। এখন শুধু জয়ের অপেক্ষা! কর্মীরা দিলীপদার হয়ে লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত।’ প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরই মন্তব্য বিজেপির জেলা সভাপতি সমিত মণ্ডলের। পাল্টা দিয়েছেন, তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা। তিনি বলেন, ‘বিজেপি আগে হিরণবাবুকে সামলাক। পরে তৃণমূলকে সামলাবে। গত পাঁচ বছর খড়্গপুরবাসী তো দিলীপবাবু আর হিরণবাবুর কোন্দলই দেখেছে। উন্নয়ন দেখেনি। উল্টে সহ্য করেছেন রেল কর্তৃপক্ষের নানা অত্যাচার, বঞ্চনা। খড়্গপুর সদরে আমাদেরও চমক থাকবে।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ