Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কল্যাণী এইমসে চাকরির টোপ দিয়ে প্রতারণা গেরুয়া নেতার!

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কোটায় কল্যাণী এইমসে চাকরি! ছ’মাসের ইন্টার্নশিপ। প্রতিমাসে মিলবে পাঁচ হাজার টাকা। তারপরই অস্থায়ী কর্মী হিসেবে নিয়োগ।

কল্যাণী এইমসে চাকরির টোপ দিয়ে প্রতারণা গেরুয়া নেতার!
  • ৯ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কোটায় কল্যাণী এইমসে চাকরি! ছ’মাসের ইন্টার্নশিপ। প্রতিমাসে মিলবে পাঁচ হাজার টাকা। তারপরই অস্থায়ী কর্মী হিসেবে নিয়োগ। এমনই টোপ দিয়ে সংঘ পরিবারের ছত্রছায়ায় থাকা একটি সংগঠনের নেতা কয়েক লক্ষ টাকা প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ। শিবশঙ্কর দত্ত নামে ওই নেতার বাড়ি বর্ধমানের কালনা থানার মধুপুর গ্রামে। তিনি নাকি বিশ্বহিন্দু পরিষদের নেতা। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, শিবশঙ্করের বিরুদ্ধে যিনি অভিযোগ তুলেছেন, তিনিও সংঘ পরিবারের পৃথক একটি সংগঠনের পদাধিকারী। নাম সুব্রত পাইক। জনসংঘের পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার আহ্বায়ক তিনি। মূলত, সুব্রতবাবুকে সামনে রেখেই শিবশঙ্কর কল্যাণী এইমসে চাকরির অফার দিয়ে টাকা তুলতেন বলে অভিযোগ। কিন্তু, চাকরি না হওয়ায় বিপাকে পড়ে যান সুব্রতবাবু। অগত্যা তিনি বুধবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপারের অফিসে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনাটি সামনে আসতেই তোলপাড় গোটা জেলা। বিড়ম্বনায় পড়ে গেরুয়া শিবির। তবে, কাটোয়া বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় এদিন বলেন, ‘আমাদের সাংগঠনিক জেলায় ১৪টি প্রখণ্ড রয়েছে। কিন্তু, ওই নামে কেউই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন। এমনকী, কালনার ওই গ্রামে আমাদের কোনও পদাধিকারী নেই। কেউ হয়তো বিশ্বহিন্দু পরিষদের নাম ভাঙিয়ে এ কাজ করতে পারেন।’ এদিকে, শিবশঙ্করবাবুকে ফোন করে সাংবাদিক পরিচয় দিতেই লাইন কেটে দেন। হোয়াটসঅ্যাপ করা হলেও কোনও রিপ্লাই দেননি। 

Advertisement

খেজুরি-২ ব্লকের বড় কশাফলিয়া গ্রামে বাড়ি সুব্রতবাবুর। একসময় তিনি হিন্দু মহাসভা করতেন। পরে জনসংঘে যোগ দেন। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে তাঁর। সেই সুযোগটাকেই কাজে লাগিয়েছেন শিবশঙ্করবাবু। সুব্রতবাবু নিজেও প্রতারিত হয়েছেন। তাঁকে ভরসা করে টাকা খুইয়েছেন কমকরে ৩৮ জন যুবক-যুবতী। সবার বাড়ি নন্দীগ্রাম ও খেজুরিতে। এঁদের বেশিরভাগই সুব্রতবাবুর পরিচিত। কল্যাণী এইমস চালু হওয়ার পর থেকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা বর্ধমানের ওই নেতা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ। 
এদিন সুব্রতবাবু বলেন, ‘আমি জনসংঘ করি। তারই সুবাদে অপর সংঘ-সংগঠনের নেতাদের সঙ্গেও আমার যোগাযোগ রয়েছে। সেই সূত্রে কালনার ওই নেতা শিবশঙ্করবাবু আমার পরিচিত। তিনি আমাকে কল্যাণী এইমসে ক্যাজুয়াল পোস্টে চাকরির কথা বলেছিলেন। আমাকে অনেকে ভরসা করে মাথাপিছু ৯০ হাজার টাকা করে দিয়েছেন। আমিই মেয়ের জন্য আড়াই লক্ষ টাকা দিয়েছি। তারপর থেকে শিবশঙ্করবাবু ও তাঁর এক শাগরেদ যোগাযোগ রাখা বন্ধ করে দেন।’ প্রতারিতদের একজন শিল্লাবেড়িয়া-২ নম্বর প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক দেবব্রত দাস। তিনি বলছিলেন, ‘ভাইয়ের চাকরির জন্য টাকা দিয়েছি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কোটায় চাকরি হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।’ অপর প্রতারিত খেজুরির ট্যাংরামারির সুদীপ প্রধান বলেন, ‘আমি টিউশন পড়িয়ে সংসার চালাই। ৯০ হাজার টাকা দিয়েছি।’ সোনাচূড়ার সুস্মিতা মণ্ডল বলেন, ‘সুব্রতবাবু সজ্জন মানুষ। তাঁর উপর ভরসা রেখেই ৯০ হাজার টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছি।’ 

সম্পর্কিত সংবাদ