নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: এক বা দু’জন নয়, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে একাধিক যুবক-যুবতীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন আমডাঙা-কাণ্ডে ধৃত বিজেপি নেতা হরিওম বাল্মিকী। তাঁর ফোন ঘেঁটে প্রতারণার নানা তথ্য উঠে এসেছে পুলিসের হাতে। তবে, যে সিম ব্যবহার করে মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন হরিওম, সেই সিমটি উদ্ধারের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। সেটি উদ্ধার হলে তদন্তের গতি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা। তবে প্রতারণার জন্য অভিনব পন্থা নিয়েছিলেন হরিওম। চাকরিপ্রার্থীদের প্রথমে বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করতেন তিনি। বিজেপির কেন্দ্রীয়স্তরের নেতাদের সঙ্গে তাঁর যে সুসম্পর্ক রয়েছে, তা প্রমাণ করতে নেতাদের সঙ্গে নিজের ছবি পাঠাতেন তিনি। সেই ছবি দেখিয়েই কেল্লা ফতে করতেন, এমনটাই ধারণা তদন্তকারীদের।
আমডাঙার বিজেপি নেত্রী পলি দাসের সঙ্গে পরিচয় হয় হাওড়ার সাঁকরাইলের বিজেপি নেতা হরিওম বাল্মিকীর। পলি দলের সক্রিয় নেত্রী হিসেবেই পরিচিত। হরিওম বিজেপির রাজ্য এসসি মোর্চার এগজিকিউটিভ সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গেও তাঁর কমবেশি পরিচয় রয়েছে। একই দলে থাকায় পলির সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে হরিওমের। এরপর বিজেপি নেত্রীকে এয়ারলাইন্সে চাকরির প্রস্তাব দেন তিনি। এই টোপ ফেলেই হাতিয়ে নেন প্রায় এক লক্ষ পাঁচ হাজার টাকা। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও পলি দাসের কপালে এয়ারলাইন্সের চাকরি জোটেনি। গত ৬ জুন হরিওমের নামে আমডাঙা থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন ওই বিজেপি নেত্রী। তদন্তকারী অফিসার আসিফ মণ্ডলের নেতৃত্বে শনিবার রাতে হাওড়ার মানিকপুরে তল্লাশি অভিযান চলে। সেখান থেকেই পুলিস তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত হরিওম জেরার সময় পুলিসকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। কখনও বলেছেন, এই কারবারের সঙ্গে তাঁর যোগ নেই। আবার কখনও বলেছেন, তিনি ওই টাকা ফেরত দিয়ে দেবেন। সূত্রটি জানিয়েছে, নিজেকে প্রভাবশালী প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন হরিওম। বিজেপি নেতাদের সঙ্গে তাঁর কিছু ছবি রয়েছে। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে নিজেকে কেউকেটা প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন তিনি। আসলে ওইসব ছবিকে হাতিয়ার করেই রেল, এয়ারলাইন্স সহ কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি বিক্রির ফন্দি এঁটেছিলেন হরিওম। বিনিময়ে নিতেন মোটা টাকা। লেনদেনের সেই তথ্য পুলিসের হাতে উঠে এসেছে। যে সিম ব্যবহার করে প্রতারণা করা হতো, সেটি উদ্ধারের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। পুলিসের অন্য একটি সূত্র বলছে, প্রতারিতের তালিকায় আরও কয়েকজন রয়েছেন। যাঁরা কিছু টাকা অগ্রিম দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ার চ্যাট ঘেঁটে সেই তথ্য পেয়েছে পুলিস।