সংবাদদাতা, বসিরহাট: রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপির শীর্ষনেতৃত্ব বারেবারে স্বচ্ছতার বার্তা দিয়েছেন। তার মধ্যেই এবার ‘তোলাবাজি’র অভিযোগ উঠল এক বিজেপি নেত্রীর বিরুদ্ধে। টাকিতে এক মহিলা বিজেপি নেত্রীর বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে বসিরহাট বিজেপিতে। এনিয়ে প্রকাশ্যে এসেছে একটি ফোনালাপ। তৃণমূলের এক কাউন্সিলারের সঙ্গে এক বিজেপি কর্মীর কথোপকথন বলে দাবি করা হচ্ছে সেটি। আর সেই কথোপকথনেই উঠে এসেছে বিজেপি নেত্রীর বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ (যদিও এর সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান)। জানা গিয়েছে, টাকি পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলার প্রদ্যুৎ দাস। তাঁর সঙ্গে এক বিজেপি কর্মীর কথোপকথনই এখন ঘুরছে সমাজমাধ্যমে। ওই ফোনালাপে এক নেত্রীর বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি। কেন টাকা? তৃণমূল নেতাকে কেনই-বা টাকা দিতে হয়েছিল? ফোনালাপ ঘিরে উঠছে সেই প্রশ্নও।
অভিযোগ, এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে-পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতির বদলের সুযোগ নেওয়া হয়েছিল। নেতাকে নানা অভিযোগে ফাঁসানোর ভয় দেখানো হত। কখনও শ্লীলতাহানির অভিযোগ। কখনো-বা সম্পত্তি সংক্রান্ত অভিযোগ। এমনকি থানায় গ্রেপ্তার করানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
প্রদ্যুতের দাবি, চাপেই নির্বাচনের আগে ২ লক্ষ টাকা দিতে হয়েছিল। ভোটের পরেও থামেনি দাবি। আরও লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। রবিবার দুপুর থেকেই ভাইরাল কথোপকথন। ঘটনাটি সামনে এসেছে এমন একসময়ে, যখন ২০২৬-এর ভোটের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। বদলের পর বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বও বারবার স্বচ্ছতার বার্তা দিয়েছে। দলের রাজ্য সভাপতি জানিয়েছেন, তোলাবাজি বা দুর্নীতির অভিযোগ বরদাস্ত করা হবে না। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। সেই আবহেই টাকির ভাইরাল ফোনালাপ নিয়ে অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। এই নেত্রী অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, টাকা নেওয়ার ব্যাপারে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন। তাঁকে ফাঁসানোর জন্য চক্রান্ত করা হচ্ছে। বদলের রাজনীতিতে স্বচ্ছতার বার্তা। তার মধ্যেই ভাইরাল ফোনালাপে ‘তোলাবাজি’র অভিযোগ। টাকির এই অডিয়ো তাই শুধু রাজনৈতিক তরজা নয়, প্রশ্ন তুলে দিয়েছে দলের ভাবমূর্তি নিয়েও। এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের।