


সন্দীপন দত্ত, মালদহ: ক্যামেরায় মোড়া পার্টি অফিস। দিল্লি, কলকাতা থেকে অন ক্যামেরা চলছে ‘নজরদারি’। ভোটের আগে দলের নেতা-কর্মীরা ঠিকমতো কাজকর্ম করছেন কিনা, কতজন সময় মতো আসছেন, আড্ডাই বেশি হচ্ছে কিনা, তা জানতে নজরদারি শুরু করেছে বিজেপি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এই সিদ্ধান্তকে দলের অনেকে তাঁদের আনুগত্য ও নিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে বলে ফুঁসছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলার এক নেতার কথায়, কিছু নেতাকর্মী ‘ফাঁকিবাজ’ হতে পারেন। কিন্তু বেশিরভাগই দলের অস্তিত্ব মজবুত করার জন্য কাজ করছেন। তাঁদের কাছে চূড়ান্ত অপমানজনক।
যদিও বিজেপির দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করতে এখন আর কলকাতায় যেতে হবে না। জেলা পার্টি অফিসে আট থেকে ন’টি ক্যামেরা বসে গিয়েছে। রাজ্য অফিস থেকে বসে পশ্চিমবঙ্গের ৪৩ টি সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বের সঙ্গে রাজ্য নেতৃত্ব আলোচনা করছে।
তিনি জানান, পার্টি অফিসের যাবতীয় কাজকর্মেও সরাসরি নজর রাখছে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রকমের অ্যাপ ব্যবহার করে বিজেপি কর্মীদের রাজনৈতিক কর্মসূচি, দলীয় কার্যকলাপের উপর নজরদারি চালাচ্ছে দিল্লি। এমনকি কোন বুথে দলের কেমন শক্তি রয়েছে, তা জানতে ডিজিটাল বোর্ড ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পদ্মপার্টি। এবার জেলা সভাপতি সহ জেলা পার্টি অফিসের নজরদারি চালাবে দিল্লি।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র ভার্চুয়াল মিটিংয়ের জন্য পার্টি অফিসে ক্যামেরা বসানো হয়নি। জেলা পার্টি অফিস কখন খোলা হচ্ছে, কখন বন্ধ হচ্ছে, সারাদিন পার্টি অফিসে কী কী কার্যকলাপ চলছে, পার্টি অফিসে নিয়মিত কারা আসছেন, কারা ডুব দিচ্ছেন, নেতাকর্মীরা জেলা পার্টি অফিসে এসে শুধুই আড্ডা মারছেন, নাকি সাংগঠনিক কাজও করছেন, তার সবটাই ক্যামেরার মাধ্যমে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নজরদারি চালাবে। দলের দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার এক তরুণ নেতার কথায়, দলের এই সমস্ত সিদ্ধান্তের ফলে ভালোই হয়েছে। কারণ অনেকেই সারাদিন নিজের কাজকর্ম করে শুধুমাত্র আড্ডা দিতে রাতের দিকে পার্টি অফিসে আসতেন। এবার ফাঁকিবাজি সম্পূর্ণ বন্ধ হবে।
বিজেপির দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলা কার্যালয়ে ন’টি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কোন জায়গায় ক’টি ক্যামেরা বসবে, সেটা ঠিক করে দিয়েছে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তার জন্য রাজ্য নেতৃত্ব আগেই পার্টি অফিস পরিদর্শন করে গিয়েছিল।