Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সবচেয়ে বড়ো ডাকাত দল বিজেপি: মমতা, ভোট গণনার দিন গণপ্রতিরোধ গড়ার ডাক তৃণমূল নেত্রীর

‘সবচেয়ে বড়ো ডাকাতের দল তোমরা! স্রেফ টাকার জন্য একের পর এক কেন্দ্রীয় সংস্থা বিক্রি করে দিচ্ছ। রেল বিক্রি করছ, সেল বিক্রি করছ, এলআইসি-ও বেচে দিচ্ছ।

সবচেয়ে বড়ো ডাকাত দল বিজেপি: মমতা, ভোট গণনার দিন গণপ্রতিরোধ গড়ার ডাক তৃণমূল নেত্রীর
  • ২৭ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাণ্ডবেশ্বর ও দুবরাজপুর: ‘সবচেয়ে বড়ো ডাকাতের দল তোমরা! স্রেফ টাকার জন্য একের পর এক কেন্দ্রীয় সংস্থা বিক্রি করে দিচ্ছ। রেল বিক্রি করছ, সেল বিক্রি করছ, এলআইসি-ও বেচে দিচ্ছ। যারা গোটা দেশটাকেই এভাবে সওদা করে দেয়, তারা আবার বড়ো বড়ো কথা বলে! বেশি মুখ খোলাবেন না, আমরা সব জানি।’ বৃহস্পতিবার বীরভূমের দুবরাজপুর বিধানসভার খয়রাশোলে নির্বাচনি প্রচারে এসে এভাবেই সরাসরি বিজেপিকে হাঁড়িকাঠে চড়ালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের নেতাদের ‘চোর’ বলা নিয়েও এদিন কার্যত রণচণ্ডী মূর্তি ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। চড়া সুরে তাঁর হুংকার, ‘তৃণমূলের সবাইকে চোর বলছ নগ্ন ভাষায়? আমি বলি তোমাদের ব্রেনটাই নগ্ন হয়ে গিয়েছে! তাই তোমাদের লজ্জা করে না। তোমরা ডাকাত।’

Advertisement

উত্তরবঙ্গের প্রথম পর্যায়ের প্রচার সেরে বুধবারই দুর্গাপুর পৌঁছে গিয়েছিলেন মমতা। এদিন পাণ্ডবেশ্বরে লাউদোহা ফুটবল মাঠে প্রথম সভা করে দুপুর ২টো বেজে ১৮ মিনিট নাগাদ বীরভূম জেলার দুবরাজপুর বিধানসভার গোষ্ঠডাঙা ময়দানে পৌঁছান তিনি। দীর্ঘ ১৫ বছর পর খয়রাশোলে পা রেখে নেত্রী বলেন, ‘বীরভূম রাঙামাটির দেশ। স্বাধীনতার পর থেকে যা এখানে হয়নি, আমরা তা করেছি। আমিও তো এই বীরভূমেরই মেয়ে।’ 
এদিন লাউদোহার সভায় সমস্ত ধর্ম এবং সমস্ত স্তরের মানুষকে বিজেপির বিরুদ্ধে একাট্টা হওয়ার অনুরোধ জানান মমতা। বিধানসভা ভোটের সুর বেঁধে দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই জায়গাটার নাম কী বলুন তো। পাণ্ডবেশ্বর। এবার লড়াইটা কিন্তু কৌরবদের সঙ্গে পাণ্ডবদের। মানে আমরা পাণ্ডব আর বিজেপি কৌরব।’ মমতা মনে করেন ২০২৬ সালের আগস্ট, সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই বিজেপি সরকারের পতন হবে। এখন যাঁরা বিজেপির হয়ে দালালি করছেন তখন কী হবে। ধর্মের কল কিন্তু বাতাসে নড়ে।’
নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক বদল নিয়ে ফের সুর তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘বিজেপির দেওয়া তালিকা মতো আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। যাঁরা দায়িত্ব পাচ্ছেন তাঁদের বলি, মনে রাখবেন, এটা পশ্চিমবঙ্গ। ভোটটা কিন্তু মানুষ দেবে। আপনারা যদি হুজ্জতি করেন, দায়িত্বটা মা-বোনেদের দিয়ে গেলাম। নির্বাচনের দিন, ভোট গণনার দিন শক্তি প্রয়োগ করেন মা-বোনেরা জোট বাঁধবেন। রুখে দাঁড়াবেন। বাড়িতে যা আছে তা নিয়ে বের হবেন।’ গণ প্রতিরোধের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘দিল্লিতে থেকে আসা পোশাক পরা লোকজন ছাপ্পা দিতে চাইলে রুখে দাঁড়ান।’ গদ্দারদের নিয়েও বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দিল্লি থেকে কিছু এজেন্টকে টাকা দিয়ে কেনার চেষ্টা করছে। আমরা নজর রাখছি। টাকা দিয়ে তাঁরা আপনাকে কিনতে পারে কিন্তু মনে রাখবেন নির্বাচনের আগে টাকা দিচ্ছে। নির্বাচনের পর এজেন্সি লাগিয়ে টাকা নিয়ে চলে যাবে। টাকা আসবে যাবে। এবার চরিত্রে দাগ লাগলে তা কিন্তু ফিরে পাবেন না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ