Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ধর্মের রাজনীতি করছে ধাপ্পাবাজ বিজেপি: অভিষেক

‘ভোট পেতে পুরোপুরি ধর্মের রাজনীতি করছে ধাপ্পাবাজ বিজেপি।’ রবিবার নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে এই ভাষাতেই গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে সুর সপ্তমে তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

ধর্মের রাজনীতি করছে ধাপ্পাবাজ বিজেপি: অভিষেক
  • ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, স্বপন দাস, নন্দীগ্রাম ও সাগর: ‘ভোট পেতে পুরোপুরি ধর্মের রাজনীতি করছে ধাপ্পাবাজ বিজেপি।’ রবিবার নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে এই ভাষাতেই গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে সুর সপ্তমে তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সাগরের সভা থেকেও একই সুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। নন্দীগ্রামে অভিযেক বলেন, ‘একদিকে উন্নয়নের লড়াই, রুজিরুটির সংগ্রাম। অন্যদিকে ধর্মে ধর্মে বিভাজন। নন্দীগ্রামে কোনো কাজ করেননি বিজেপির বিধায়ক। সেই ব্যর্থতা ঢাকতে এখন ধর্মীয় তাস খেলছেন।’ এরপর তাঁর ঘোষণা, ‘আমাদের দলের প্রার্থী পবিত্র করকে জেতালে হলদি নদীর উপর সেতু সহ একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্প অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শুরু হবে।’   

Advertisement

২১-এর বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামে ‘লোডশেডিং’ বিতর্ক নিয়েও মুখ খোলেন অভিষেক। বলেন, ‘গত নির্বাচনে তৃণমূল নন্দীগ্রামে যথেষ্ট লড়াই দিয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলের প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোডশেডিং করে হারানো হয়েছিল। তারপর পাঁচ বছর নন্দীগ্রামের মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। যাঁরা নন্দীগ্রামের উন্নয়ন স্তব্ধ করেছেন, এই নির্বাচন তাঁদের বিরুদ্ধে। যাঁরা ধর্মে ধর্মে বিভেদ তৈরি করে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করছেন, তাঁদের উপড়ে ফেলার নির্বাচন। ২৩ তারিখ প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ভোট। প্রতিশোধেরও।’ 
এদিন অভিষেকের সভা ছিল নন্দীগ্রাম-১ নম্বর ব্লকের পল্লি উৎসব ময়দানে। সেখান থেকে তিনি নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে বলেন, ‘সিইও মনোজ আগরওয়াল ৭ এপ্রিল নন্দীগ্রামে এসেছিলেন। বিজেপির মার্কামারা গুন্ডাদের নিয়ে ঘুরেছেন। এখানকার বিজেপি প্রার্থীর হয়ে প্রচার করেছেন। সিইওকে ভোট প্রচারে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এখানকার বিজেপি প্রার্থীর ইলেকশন এজেন্ট কে, আমি জানি না। আমার ধারণা, সেই এজেন্টের নাম মনোজ আগরওয়াল। চ্যালেঞ্জ করছি, আপনার ইলেকশন এজেন্ট মনোজবাবু এবং অমিত শাহের ইলেকশন এজেন্ট জ্ঞানেশ কুমার বিজেপিকে জেতাতে পারবে না। যে নন্দীগ্রাম সিপিএমের বোমা, বন্দুকের কাছে মাথা নোয়ায়নি, সেই নন্দীগ্রাম কি দিল্লির জমিদারদের কাছে আত্মসমর্পণ করবে? মোদিজি ঠিক করে দেবেন, আমরা কী খাব? গুজরাত ঠিক করবে, আমরা কী পরব?’
এই সূত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একহাত নেন তৃণমূল সেনাপতি। বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এ রাজ্যে এসে বলছেন, ২৯ তারিখের মধ্যে তৃণমূলের গুন্ডাদের থানায় আত্মসমর্পণ করতে হবে। তৃণমূলে কোনো গুন্ডা নেই। সবচেয়ে বড় গুন্ডা তো বিজেপিতে রয়েছে।’ মোদিকে তাঁর পরামর্শ,  ‘গরম পড়বে। মাথা ঠান্ডা রাখুন। কারণ, এসআইআরে এত নাম কাটার পরও সব সমীক্ষা বলছে, বিজেপি হারছে।’ 
সাগরের জনসভা থেকেও প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেন অভিষেক। বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এখন  প্রায় প্রতিদিন বাংলায় আসছেন। অথচ, বাংলার মানুষের প্রাপ্য ২ লক্ষ কোটি টাকা দিচ্ছেন না। এবার আপনাদের লেজেগোবরে করে ছাড়ব। বলছে জনতা, ছাব্বিশে ফের মমতা।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ