


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের পর পিএম শ্রী স্কুল কর্মসূচি। এহেন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মসূচি এবার রাজ্যে চালুর ব্যাপারে উদ্যোগী হল বাংলার বিজেপি সরকার। শুক্রবারই শিক্ষামন্ত্রকের সঙ্গে এসংক্রান্ত বিষয়ে উল্লেখযোগ্য মউ স্বাক্ষর হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, এদিন কেন্দ্রের স্কুল শিক্ষাদপ্তরের সচিব সঞ্জয় কুমার এবং রাজ্য সরকারের দুই সচিব ধীরজ সাহু ও বিনোদ কুমারের উপস্থিতিতে পিএম শ্রী স্কুল কর্মসূচি কার্যকর সংক্রান্ত মউ স্বাক্ষর হয়েছে।
দেশব্যাপী বিভিন্ন স্কুলের পরিকাঠামো এবং পঠন-পাঠনগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পিএম শ্রী প্রকল্প চালু করে মোদি সরকার। কিন্তু গোড়া থেকেই এর বিরোধিতায় শামিল হয় রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম আপত্তিই ছিলকর্মসূচিতে ‘পিএম’ শব্দের উল্লেখ নিয়ে। এর ফলে তদানীন্তন রাজ্য সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করেনি। ফলে রাজ্যে তা চালুও হয়নি। প্রসঙ্গত, পাঁচ বছরের জন্য এই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এর মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র ১৬ মাস বাকি রয়েছে। এর ফলে এই মুহূর্তে বাংলায় তা চালু হলে বাকি থাকা মাত্র ১৬ মাস এই কর্মসূচির সুবিধা মিলবে রাজ্যে। যদিও শিক্ষামন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পরবর্তী ক্ষেত্রে পিএম শ্রী কর্মসূচির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হতে পারে। যদিও শুক্রবার পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে মোদি সরকার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।
জানা যাচ্ছে, পিএম শ্রী স্কুল কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশের ১৪ হাজার ৫০০টিরও বেশি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো এবং পঠন-পাঠনগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে মোদি সরকার। ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিকে মান্যতা দিয়েই এই কর্মসূচি দেশব্যাপী চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছিল শিক্ষামন্ত্রক। আর এহেন জাতীয় শিক্ষানীতির বিরোধিতাতেই সোচ্চার ছিল রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার।
শিক্ষামন্ত্রকের পরিসংখ্যান বলছে, এই মুহূর্তে সারা দেশের মোট ১৩ হাজার ৯১টি বিদ্যালয়কে পিএম শ্রী স্কুলে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি মাত্র ৬০। এর মধ্যে রয়েছে ৪৬টি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় এবং ১৪টি নবোদয় বিদ্যালয়। অর্থাৎ, যেসব স্কুলের পরিচালনভার পুরোপুরি কেন্দ্র সরকারের হাতে রয়েছে। রাজ্যের বাকি কোনো প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, সেকেন্ডারি এবং হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে তা চালুই হয়নি। ফল ভুগেছে রাজ্যের পড়ুয়ারা।