সংবাদদাতা, বোলপুর: তৃণমূলের প্রাক্তন চেয়ারপার্সনের ছেলের সঙ্গে বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডলের রাতের অন্ধকারে সাক্ষাৎ ঘিরে দলের অন্দরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় দলের একাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করে। বুধবার বোলপুরে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন বিজেপি সভাপতি।
তিনি বলেন, ভকত পরিবার অনেক বড়। বিকাশ ভকত নামে অনেকেই রয়েছেন। আমি তাঁকে ব্যবসায়ী হিসেবেই জানতাম। তিনি যে তৃণমূল নেতার ছেলে বা তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত, তা জানতাম না। তাঁর সঙ্গে আমার এক-দু’ দিনের পরিচয়। শিল্প সংক্রান্ত বিষয়ে কলকাতায় গিয়ে আমাদের সরকারের কাছে দরবার করেছিলেন বিকাশ। সেখান থেকেই আমাকে ফোন করা হয়। আমি তখন বাইরে ছিলাম। কয়েক মিনিট কথা বলবেন বলে দেখা করতে চেয়েছিলেন। তাই ফেরার পথে রাতে গিয়ে তাঁর অফিসে দেখা করি। সংগঠনের কাছে আমার এই যাওয়া ভুল মনে হয়েছে। আমিও তা স্বীকার করছি। দলের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে কী ধরনের মনোভাব তৈরি হয়েছে, সেটাও দেখেছি। তবে একইসঙ্গে দলের অন্য নেতাদের নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শ্যামাপদবাবু। তাঁর দাবি, জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিয়েও আমাদের দলের নেতারা তৃণমূলের লোকেদের সঙ্গে বসেছিলেন। তৃণমূলের নেতারা বলেছিলেন, বিজেপিতে গিয়ে জেলা পরিষদ গঠন করবেন। সেটা অপরাধ না হলে এটা কেন? তিনি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও অনেকে দেখা করেন। রাজনীতিতে সৌজন্য থাকবেই। আমার অফিসেও প্রতিদিন তৃণমূলের সিংহভাগ লোক নানা সমস্যা নিয়ে আসেন।
এদিকে বোলপুরে তাঁর বিরুদ্ধে গোষ্ঠী তৈরির অভিযোগ নিয়েও মুখ খোলেন জেলা সভাপতি। তাঁর দাবি, জেলা সভাপতি হওয়ার জন্য দলের একাধিক নেতা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তিনি বলেন, জেলা প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য অনেকে উদগ্রীব হয়ে আছেন। তার জন্য একটা টিম চাই। নির্বাচনের আগে দলের ধর্মীয় মঠ-মন্দির সংক্রান্ত বিভাগ খোলা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, ওই বিভাগের এক প্রমুখ তিন দিন আগে স্টেশনের কাছে গীতাঞ্জলি হলে একটি ধর্মীয় সভা করেন। সেখানে সই করিয়ে ভবিষ্যতে অন্য এক নেতাকে জেলা সভাপতি করার পক্ষে রেজুলেশন করেছেন। অনেক নেতা জেলা সভাপতি হওয়ার জন্য মাঠে নেমেছেন। প্রায় ১৭ জন এই প্রতিযোগিতায় রয়েছেন। তবে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীতে কারা রয়েছেন, তাঁদের নাম বলতে চাননি তিনি। তাঁর অভিযোগ, এই নেতারাই দলকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছেন।
তৃণমূল নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের সমাজমাধ্যমে কটাক্ষ প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন শ্যামাপদবাবু। নাম না করে তিনি বলেন, যাঁরা এসব করছেন তাঁদের নেতৃত্বে দলে কোনো সংগঠন ছিল না। শুধু পুরসভায় একজন সদস্য ছাড়া কেউ ছিল না। আমাকে প্রদেশের দায়িত্ব ছেড়ে জেলার দায়িত্ব নিতে হয়েছিল। বড় দায়িত্ব ছেড়ে ছোট দায়িত্ব আমাকে কেন নিতে আসতে হল? তাঁরা তাহলে দায়িত্ব পেলেন না কেন? যদিও এই নিয়ে দিলীপ ঘোষ কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
এরপরই আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন সভাপতি। তাঁর দাবি, আমাদের বেশ কিছু কার্যকর্তা এখনও তৃণমূল নেতাদের অনুকরণ করে চলছেন। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে পুকুরে গিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করছেন। এমনকি বিজেপির অনেক নেতার কাছে তৃণমূল নেতাদের গুরুত্ব বেশি। তবে তাঁর দাবি, আমি দলের আদর্শে বিশ্বাসী। এসব দল বরদাস্ত করবে না।



