সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সরকারি জনকল্যাণ শিবিরের মঞ্চে বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশিত হয়ে পড়ল। দলের জেলা সম্পাদকের কাছে অপমানিত হয়ে মঞ্চ ছাড়লেন আদি বিজেপি নেতা তথা জেলা কমিটির সদস্যে। মুরারই ১ ব্লকের এই ঘটনায় সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার থেকে গোটা রাজ্যের মতো মুরারই ১ ব্লকেও আয়োজন করা হয়েছিল জনকল্যাণ শিবিরের। সেখানে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক মোশারফ হোসেন, বিডিও এইচ এম রিয়াজুল হক, বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য অরিণ দত্ত এবং এবারের বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী রিঙ্কি ঘোষ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিধায়ক প্রদীপ প্রজ্বলন করে শিবিরের সূচনা করার পর যখন মহিলাদের হাতে গাছের চারা তুলে দিচ্ছিলেন, তখনই শিবিরের খামতি নিয়ে ক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। মাইকিং করা সত্ত্বেও বিধবা ও বার্ধক্যভাতার আবেদন না নেওয়া এবং প্রখর রোদে ছাউনি না থাকা নিয়ে তাঁরা সোচ্চার হন।
সেই পরিস্থিতিতে বিজেপি প্রার্থীর স্বামী তথা দলের জেলা সম্পাদক হেমন্ত ঘোষ এসে মঞ্চে অরিণ দত্তকে দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অরিণবাবুকে আঙুল উঁচিয়ে তিনি বলেন, ‘হটেন এখান থেকে, কংগ্রেসের হয়ে ভোট করবে আর এলাকায় বিজেপি বিজেপি করবে।’ এই নিয়ে তাঁর অনুগামীরা ক্ষোভ দেখাতে থাকলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তেজনা সামাল দিতে বিডিও এইচ এম রিয়াজুল হক অরিণবাবুকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলেন। প্রশাসনিকভাবে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা হলেও, প্রকাশ্য মঞ্চে দলেরই নেতার এই আচরণ অরিণবাবুর কাছে অবমাননাকর হয়ে দাঁড়ায়।
ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা সম্পাদক হেমন্ত ঘোষ বলেন, ‘সাড়ে দশটা নাগাদ শিবিরে এসে দেখি মানুষ বিভ্রান্ত। প্রখর রোদ সত্ত্বেও ছাউনি নেই। এখানে পার্টি অফিসের আখড়া করলে হবে না। এখনও টিএমসির গন্ধ তাঁদের শরীর থেকে যায়নি। যাঁরা অযোগ্য তাঁদের ডেকে এনে বসানো হয়েছে, যাঁদের যোগ্যতা আছে তাঁদের কাজে লাগাতে হবে।’ অরিণবাবুকে সরিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি সাফাই দিয়ে বলেন, ‘আমি সেই অর্থে বলিনি। এটা তো সরকারি কর্মসূচি। সেখানে শাসক বা বিরোধী রাজনৈতিক দলের লোকেরা থাকতে পারে না।’
অন্যদিকে, অপমানিত অরিণ দত্ত বলেন, ‘আমন্ত্রণ পেয়েই সরকারি ওই অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সরকারি অনুষ্ঠানে দলের অন্দরের বিষয় না নিয়ে এসে প্রোটোকল বজায় রেখে সকলের চলা উচিত। আমার বিরুদ্ধে ওঁর ক্ষোভ বা অভিযোগ থাকতে পারে, কিন্তু সেটা সত্য না মিথ্যা তা দলের অন্দরে আলোচনা করতে পারতেন। এতে দলের সম্মান ক্ষুণ্ণ হল। বিডিও বলায় আমি মঞ্চ ছেড়ে বাড়ি চলে আসি।’ তিনি আরও জানান, ‘এই বিষয়ে দলের জেলা নেতৃত্বের দ্রুত হস্তক্ষেপ করা উচিত।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অরিণবাবুর সঙ্গে হেমন্ত ঘোষের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই আদায় কাঁচকলায়। রামনবমীর মিছিলে তৃণমূলের মোশারফ হোসেনের সঙ্গে অরিণ দত্তের একসঙ্গে হাঁটা এই ক্ষোভের আগুনকে উসকে দিয়েছিল। এছাড়া, রিঙ্কি ঘোষকে প্রার্থী হিসেবে মেনে না নেওয়া এবং দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝোলানোর পেছনে অরিণবাবুর মদতের যে অভিযোগ হেমন্তবাবুর অনুগামীরা তুলেছিলেন, তার রেশ বিধানসভা ভোট মিটে যাওয়ার পরও কমেনি। ভোটের প্রচারে একসঙ্গে না থাকার পর এই প্রথম কোনো বড় মঞ্চে তাঁদের মুখোমুখি হওয়া এবং তার পরিণতি এই চরম সংঘাত। সরকারি মঞ্চে দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে আসায় বিজেপির দলগত শৃঙ্খলা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।