নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি ও সংবাদদাতা, সিউড়ি, রামপুরহাট: নির্বাচনের ফল ঘোষণা হতে না হতেই বীরভূম জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির বেলাগাম তাণ্ডবের অভিযোগ সামনে এল। সোমবার জয় নিশ্চিত হওয়ার খবর আসার সঙ্গে সঙ্গেই জেলার গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্রই তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। দোকান এবং দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে জয়ের উৎসব কার্যত রক্তক্ষয়ী হিংসায় পরিণত করেছে গেরুয়া শিবির। দুবরাজপুর, সিউড়ি, লাভপুর থেকে বোলপুর, সর্বত্রই একই কায়দায় বিজেপির বিরুদ্ধে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং দলীয় কার্যালয় দখলের অভিযোগ উঠেছে।
দুবরাজপুর ব্লকের লোবা পঞ্চায়েতের কোটা গ্রামে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি পিনাকী চক্রবর্তীর বাড়িতে বিজেপি কর্মীরা চড়াও হয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। ঘটনার সময় পিনাকীবাবুর বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে দুষ্কৃতীরা শোয়ার ঘর, আসবাবপত্র, আলমারি, চেয়ার-টেবিল থেকে শুরু করে বাথরুম পর্যন্ত লণ্ডভণ্ড করে দেয়। শুধু অঞ্চল সভাপতির বাড়ি নয়, লোবা গ্রামের আরও কয়েকটি তৃণমূল সমর্থকের বাড়িতেও একই কায়দায় ভাঙচুর চালিয়েছে উন্মত্ত বিজেপি কর্মীরা। বর্তমানে এলাকায় বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকলেও চাপা উত্তেজনা রয়েছে।
সিউড়ি বিধানসভার সদাইপুর থানা এলাকার পানুরিয়া গ্রামে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তৃণমূল কর্মী শেখ সফিকের বাড়িতে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। সফিকের পরিবারের সদস্যদের দাবি, গেরুয়া বাহিনীর অত্যাচারে তাঁদের এখন কার্যত গ্রামছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছেন। সিউড়ি শহরের ১০নম্বর ওয়ার্ডেও তৃণমূল সমর্থকের বাড়িতে বোমা মারার মতো অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, কীর্ণাহার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূল সমর্থকদের দু’টি গুমটি উলটে দেওয়ার পাশাপাশি একটি কাঠের দোকানের চালাঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। প্রশাসনের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছে।
লাভপুর বিধানসভার ইন্দাস অঞ্চলে তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয় জোর করে দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। বিজেপি কর্মীদের দাবি, তাঁরা একসময় তৃণমূল করলেও এখন দলের জয়ের পর নিজেদের ‘অধিকার’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে সরাসরি গণতন্ত্রবিরোধী বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। বোলপুরেও ছবিটা আলাদা নয়। সেখানে গণনাকেন্দ্র থেকে মাত্র ১৫০ মিটার দূরে তৃণমূলের ভোটরক্ষা ক্যাম্প অফিস গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। এই হামলায় পুর প্রতিনিধি সুকান্ত হাজরা সহ বেশকিছু তৃণমূল কর্মী-সমর্থককে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
মুরারইয়ের কংগ্রেস প্রার্থী সঞ্জীবুর রহমানের এক কাউন্টিং এজেন্টকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে। তারাপীঠে টিআরডিএর অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে বিজেপি।
জেলায় হিংসার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। তিনি বলেন, বিজেপি কর্মীরা চারদিকে ভাঙচুর শুরু করে দিয়েছে। আমি জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলছি যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিজেপি নেতৃত্বের কাছে আমার অনুরোধ, দয়া করে আপনাদের লোকেদের নিয়ন্ত্রণ করুন। যদিও বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি দীপক দাস এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এগুলো কোনো পরিকল্পিত হামলা নয়। তৃণমূলের হাতে দীর্ঘদিনের অত্যাচারিত সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।