Bartaman Logo
৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পালাবদলের পর বোলপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে মাছ-ভাত উৎসব বিজেপির

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সরকার গঠন করেছে বিজেপি। বোলপুর শহরে বিজয় মিছিলের পাশাপাশি ‘মাছ-ভাত’ উৎসব করছে গেরুয়া শিবির। বাঙালির চিরন্তন খাদ্যসংস্কৃতিকে সামনে রেখে বিজেপির এই উদ্যোগ এখন রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

পালাবদলের পর বোলপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে মাছ-ভাত উৎসব বিজেপির
  • ১৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সরকার গঠন করেছে বিজেপি। বোলপুর শহরে বিজয় মিছিলের পাশাপাশি ‘মাছ-ভাত’ উৎসব করছে গেরুয়া শিবির। বাঙালির চিরন্তন খাদ্যসংস্কৃতিকে সামনে রেখে বিজেপির এই উদ্যোগ এখন রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Advertisement

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে বোলপুর শহরের একাধিক ওয়ার্ডে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উদ্যোগে মাছ-ভাতের আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার বিজয় মিছিল শেষে শহরের স্টেশন সংলগ্ন এলাকা, ত্রিশূলাপট্টি ও নিচুপট্টি এলাকায় দলীয় কর্মীরা আলাদা আলাদা ওয়ার্ডে এই আয়োজন করেন। বড় বড় হাঁড়িতে ভাত রান্না হয়েছে। কোথাও কাতলা আবার কোথাও রুই মাছের ঝোল। কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষও সেই আয়োজনে অংশ নেন। রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেও কার্যত মিলনমেলার আবহ তৈরি হয়। এমনকি এই উৎসবের যোগদানের বার্তা দিতে টোটোয় করে মাইকিং করা হয়েছে। 
বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মহলে মাছ-ভাত নিয়ে জোর বিতর্ক তৈরি হয়। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় মাছ-মাংস খেতে দেবে না বলে অভিযোগ তোলে তৃণমূল কংগ্রেস। সেইসময় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রকাশ্যেই সেই অভিযোগের বিরোধিতা করে বলেছিলেন, মাছ বাঙালিও খাবে, মাছ বিহারিও খাবে। তাঁর কথায়, মাছ-ভাত শুধুমাত্র একটি খাবার নয়, এটি বাঙালির পরিচয়ের প্রতীক। নির্বাচনে জয়ের পর  বিধানসভায় বিধায়কদের জন্যও মাছ-ভাতের মেনু রাখা হয়েছিল। এবার সেই বার্তারই বাস্তব প্রতিফলন এখন দেখা যাচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে।
নতুন সরকার গঠনের পর সাধারণ মানুষের জন্য মাছ-ভাত খাওয়াতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রের দাবি। রাজ্যের বিভিন্ন ভর্তুকিযুক্ত মা ক্যান্টিনে এতদিন ডিম-ভাত দেওয়া হত, সেখানে এবার মাত্র ৫টাকায় সাধারণ মানুষের পাতে মাছ-ভাত তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেকের মতে, মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বাংলার খাদ্যসংস্কৃতিকে মর্যাদা দিতেও বিজেপির এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক ও জনকল্যাণমূলক মাস্টারস্ট্রোক হয়ে উঠতে পারে।
বোলপুরের বিজেপি কর্মী সনাতন দাঁ বলেন, বিজেপি কখনও বাঙালির সংস্কৃতির বিরোধী নয়। বরং বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস সবকিছুকেই আমরা সম্মান করি। মাছ-ভাত বাঙালির আবেগ, আর সেই আবেগকে সম্মান জানাতেই এই আয়োজন। আমরা প্রমাণ করতে চাই, বিজেপি কোনও পৃথক সংস্কৃতির দল নয়। সব সংস্কৃতিকেই সমানভাবে গ্রহণ করতে জানে। বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, দীর্ঘদিন বাংলায় তৃণমূলের সময়কালে যে অপসংস্কৃতি ও বিভাজনের রাজনীতি চলেছে মানুষ তার অবসান চেয়েছিল। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলার মানুষ নতুন আশা দেখছে। মাছ-ভাতের এই আয়োজন শুধুই ভোজন নয়, এটি বাংলার খাদ্যসংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। যা এতদিন ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে এসেছে তৃণমূল।  যদিও রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীকবাবু বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের মাছ-ভাত খাওয়ানোর জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তিনি বিজেপির দলীয় কার্যালয়গুলিতে দলমত নির্বিশেষে তৃণমূল কর্মীদের জন্য মাছ-ভাতের আয়োজন করতে বলেছিলেন। বোলপুরের এই বিজয় উৎসবে তৃণমূল নেতৃত্বকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কি না, সেবিষয়ে অবশ্য স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি গেরুয়া শিবির।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ