সংবাদদাতা, করিমপুর: করিমপুরে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে। দু’ পক্ষের সংঘর্ষ ও অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে থানারপাড়া থানার ধোড়াদহ গ্রামে। উভয় পক্ষই থানায় পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। তা নিয়ে থানার সামনে দু’ পক্ষ বচসায় জড়িয়ে পড়ে। হাতাহাতিও শুরু হয়।
অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে ধোড়াদহ-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের রজতপাড়ার বাসিন্দা বিজেপির মণ্ডল ১ এর শক্তিপ্রমুখ জয়দেব সাহা এবং ১৫ নম্বর বুথ সভাপতি লখিন্দর দাসের বাড়িতে দলেরই মণ্ডল ১ এর সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস ঘোষ, বিদেশ মণ্ডল ও বিপুল মণ্ডল হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। ওই রাতেই অভিযোগ জানাতে থানারপাড়া থানায় গেলে অভিযুক্তরা থানার সামনেই তাদের মারধর করে তাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ। ধোড়াদহ-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি কনভেনার শিবেন চৌধুরীর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ ও সরকার গঠনের পর থেকেই মণ্ডল-১ সভাপতি সৌমিত্র ঘোষের নেতৃত্বে একটি গোষ্ঠী এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তারা পঞ্চায়েত থেকে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে চাইছে। এর বিরোধিতা করায় দলের অন্য কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। শিবেনবাবুর আরও দাবি, রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ তিনি অভিযোগ জানাতে থানায় গেলে থানার সামনেই কয়েকজন দুষ্কৃতীকে সঙ্গে নিয়ে তাদের মারধর করা হয়। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক ফোন করে অভিযোগ জমা দিতে বললেও নিরাপত্তার আশঙ্কায় তাঁরা আর থানায় যাননি। অন্যদিকে, বিজেপির মণ্ডল-১ সভাপতি সৌমিত্র ঘোষ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এটি গোষ্ঠীকোন্দল নয়। পুরনো শত্রুতার জেরে কাজ থেকে ফেরার পথে দলের কর্মী বিদেশ মণ্ডলকে লখিন্দর দাস ও জয়দেব সাহা মারধর করেন। তিনি জানান, দলের কেউ কেউ দলের নীতির বাইরে গিয়ে নানা কাজ করার চেষ্টা করছে। অভিযোগ, লখিন্দরের বাবা সমর দাসের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বিদেশ মণ্ডলের হাতের শিরা কেটে যায়। প্রথমে তাঁকে নতিডাঙা গ্রামীণ হাসপাতালে এবং পরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনায় আহতের ভাই বিপুল মণ্ডল থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন। দুই পক্ষকেই শাসন করা হয়েছে। কাঊকে মারধর করা হয়নি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।