Bartaman Logo
১২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দলীয় বিধায়কের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ বিজেপি জেলা কমিটির নেতাই

বারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচীর বিরুদ্ধে অরাজক অবস্থা সৃষ্টি এবং দখলের রাজনীতি করার অভিযোগ তুললেন খোদ বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য অহীন্দ্রনাথ বসু।

দলীয় বিধায়কের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ বিজেপি জেলা কমিটির নেতাই
  • ১২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: বারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচীর বিরুদ্ধে অরাজক অবস্থা সৃষ্টি এবং দখলের রাজনীতি করার অভিযোগ তুললেন খোদ বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য অহীন্দ্রনাথ বসু। রবিবার রাতে রীতিমতো সাংবাদিক বৈঠক করে বিধায়ক এবং তার অনুগামীদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন গেরুয়া শিবিরের প্রবীণ ওই নেতা। সেই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন এসেছে। আমরা ভেবেছিলাম, সুদিন এল। তার পরিবর্তে আমরা দেখছি বিজেপি কর্মীরা লাঞ্ছিত হচ্ছেন দলের একটা অংশের হাতেই।  

Advertisement

প্রসঙ্গত, বারাকপুর পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের সুভাষ কলোনিতে একটি পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ ওঠে। প্রকাশ্যে সেই অভিযোগ করেছিলেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচীর ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন কাউন্সিলর প্রদীপ ঘোষ। স্থানীয় একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে প্রদীপবাবু বলেছিলেন, বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলা হয়েছে। তার প্রতিবাদে সাংবাদিক বৈঠক করে প্রবীণ বিজেপি নেতা অহীন্দ্রনাথ বসু তীব্র ভাষায় বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচী এবং প্রদীপ ঘোষকে আক্রমণ করেন। বিজেপি জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য বলেন, বারাকপুরে দখলের রাজনীতি চলছে। বিধায়ক ঘুরে ঘুরে সব ক্লাবের চাবি নিয়ে নিচ্ছেন। পার্টি অফিস দখল করে নিচ্ছেন। আমাদের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য পরিষ্কার জানিয়েছেন, এসব সংস্কৃতি আমাদের নয়। তা শুনছেন না বিধায়ক এবং তার অনুগামীরা। দলের স্বার্থেই বাধ্য হয়েই সাংবাদিক বৈঠক করে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। 
কৌস্তভবাবু অবশ্য ওই বক্তব্যকে গুরুত্ব না দিয়ে পালটা অভিযোগ করেন, কারও উসকানিতে তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে। তাঁর ইঙ্গিত  বারাকপুরের প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম দাসের দিকে। বিধায়ক বলেন, পুকুরে কী হয়েছে, তা এলাকার মানুষ বলতে পারবেন। আমি সব ব্যাপারে ঢুকতে চাই না। অহীন্দ্রনাথ বসু আমার দাদুর বয়সি। এই ধরনের মানুষকে আমি শ্রদ্ধা করি। ওঁনার একটু সাংবাদিক সম্মেলন করার ইচ্ছা জেগেছে। এর আগেও ২০২৪ সালে অর্জুন সিং যখন প্রার্থী হয়েছিলেন, তখনও তিনি প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। ওঁনার ব্লাড প্রেসার হয়ত বেড়েছে, তাই এ ধরনের মন্তব্য করেছেন। এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না। শুধু চাই, তিনি ভালো থাকুন। এই পর্বে যাঁর দিকে বিধায়কের ইঙ্গিত, বারাকপুর পুরসভার প্রাক্তন সেই চেয়ারম্যান উত্তম দাসের সাফাই, যতদিন চেয়ারম্যান ছিলাম, কোনো রাজনীতি দেখিনি। সিপিএম হোক বা বিজেপি, যে আমার কাছে এসেছেন আমি তাঁর  পাশে দাঁড়িয়েছি। তাই সকলের সঙ্গেই যোগাযোগ আছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ