নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ৫৫টি এমসিকিউ প্রশ্নের মধ্যে মাত্র তিনটিতে নাকি দাগ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। তাতেই পিংলা থানার মুণ্ডুমারী ঊষানন্দ বিদ্যাপীঠে অঙ্কের শিক্ষক হয়েছিলেন ময়না ব্লকের গোজিনা পঞ্চায়েতের বিজেপির উপপ্রধান সৌমেন কর। হাইকোর্টে সিবিআইয়ের জমা দেওয়া তাঁর ওএমআর শিটের কপি ভাইরাল হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে একযোগে এরাজ্যের ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। সেই লিস্টে আছে গোজিনার এই উপপ্রধানের নামও। চাকরি খুইয়ে অন্যদের মতো তিনিও হতাশ। এই সঙ্কটময় মুহূর্তে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরেই ভরসা রাখতে চান ওই বিজেপি নেতা। শুক্রবার তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী চাকরিহারা শিক্ষক শিক্ষিকাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন। তিনি নিশ্চয়ই আমাদের জন্য কিছু একটা করবেন।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় প্রায় দেড় হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়ে গিয়েছে। সেই তালিকায় তৃণমূল এবং বিজেপি নেতার পরিবারের সদস্যরাও আছেন। বিজেপির নন্দকুমার-২মণ্ডলের প্রাক্তন সভাপতি নির্মল খাঁড়ার স্ত্রী চাকরি খুইয়েছেন। আগেও হাইকোর্টের নির্দেশে বাতিল হওয়া তালিকায় তাঁর নাম ছিল। নির্মলবাবু বলেন, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকে আমার স্ত্রীর রেজাল্ট ভালো ছিল। ইউনিভার্সিটিতেও র্যাঙ্ক করেছিল। যোগ্যতার নিরিখে চাকরি পেয়েছিল। তারপরও বাতিল হল। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।নন্দীগ্রাম-২ব্লকের খোদামবাড়ি ইউনিয়ন ভূতনাথ প্রধান উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক এবং চারজন অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। প্রধান শিক্ষক শৈবাল জানা বলেন, স্কুলে চাবি খোলার মতো কেউ থাকল না। রামনগর বালিকা বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক এবং তিনজন অশিক্ষক কর্মী চাকরিহারা। একইভাবে চণ্ডীপুর ব্লকের ডিকাশিমপুর গার্লস হাইস্কুলে একসঙ্গে সাত শিক্ষক চাকরি খুইয়েছেন। এই অবস্থায় কীভাবে স্কুল চলবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ।
কোলাঘাটে দেউলিয়া গার্লসে পাঁচজন শিক্ষিকা এবং একজন অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। প্রধান শিক্ষিক তাপসী দাস বলেন, উচ্চ মাধ্যমিকে পঠনপাঠন চালানো কঠিন হয়ে গেল। বাংলায় কোনও শিক্ষক শিক্ষিকা থাকলেন না। একটা অদ্ভুত সঙ্কট তৈরি হল।
তমলুক ব্লকের খামারচক হাইস্কুলে আগেই সিআইডির হাতে দু’জন ভুয়ো শিক্ষক গ্রেপ্তার হয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্যানেল বাতিলের জেরে আরও একজন শিক্ষক এবং একজন গ্রুপ-ডি কর্মী চাকরিহারা হলেন। যদিও ওই স্কুলে ২০২২সালে নিয়োগ হওয়া একজন গ্রুপ-ডি কর্মীর চাকরি বহাল। তাঁর নিয়োগ ঘিরে আগেই শিক্ষকদের মধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছিল। ২৬বছর বয়সি ওই যুবকের নিয়োগ কি এসএসসি-র মাধ্যমে হয়েছে? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে শিক্ষকদের মধ্যে। সুপ্রিম কোর্টের রায় বেরনোর পর থেকেই চণ্ডীপুর ব্লকের নন্দকপুর-বরাঘুনি গ্রাম পঞ্চায়েতের এক বিজেপি নেতার খোঁজে চাকরি খোয়ানো শিক্ষকরা বাড়িতে যাচ্ছেন। কিন্তু, দু’দিন ধরে তাঁর খোঁজ নেই। একসময় দাপুটে ওই তৃণমূল নেতার হাত ধরে বেশ কয়েকজন চাকরি পেয়েছেন বলে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে। ২০২০সাল নাগাদ তিনি বিজেপিতে জয়েন করেন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার চাকরি খোয়ানো শিক্ষক শিক্ষিকারা আপাতত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে তাকিয়ে। ৭এপ্রিল তিনি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মুখোমুখি হবেন। সেখানে পূর্ব মেদিনীপুর থেকে চাকরি খোয়ানো শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা দলবেঁধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সৌমেন কর।