নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: তৃণমূলের টিকিটে জেতা ‘নির্দল’ কাউন্সিলারদের নিয়েই সিআইসি গঠন করলেন ইংলিশবাজার পুরসভার বিজেপি চেয়ারম্যান অম্লান ভাদুড়ি। শুধু তাই নয়, কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর আমলে অর্থাৎ আগের তৃণমূল বোর্ডে যিনি ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন, বিজেপির বোর্ডে একই পদে বহাল থাকলেন তিনি। বিজেপির দুই কাউন্সিলারের সঙ্গে সিআইসি সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পেলেন তৃণমূলের টিকিটে জেতা নির্দল শুভময় বসু, প্রসেনজিৎ ঘোষ, উদয় চৌধুরী ও পলি সরকার। প্রশ্ন উঠেছে, তৃণমূলের টিকিটে জেতা কাউন্সিলারদের ‘নির্দল’ সাজিয়ে তাঁদের উপর ভরসা করেই যদি বোর্ড চালাতে হয়, তাহলে কীসের পরিবর্তন হল পুরসভায়? যদিও পুরসভা চালাতে এমনটা করা ছাড়া যে আর কোনো উপায় ছিল না, শনিবার তা স্বীকার করে নিয়েছেন বিজেপির বিধায়ক তথা চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, পুরসভায় প্রশাসক বোর্ড হলে সব কাজ ঠিকমতো করা সম্ভব নয়, এমনটা ভেবেই দলে সিদ্ধান্ত হয়, ইংলিশবাজার পুরসভায় আমরা বোর্ড গড়ব। সেইমতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। কিন্তু পুরসভা চালাতে ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল গঠন করতে হবে। সেগুলির জন্য প্রয়োজনীয় কাউন্সিলার আমাদের নেই। যার কারণে নির্দল শিবির থেকে কাউন্সিলারদের দায়িত্ব দিতে হয়েছে।
তিনজন কাউন্সিলার নিয়ে বিজেপিকে ইংলিশবাজার পুরসভায় বোর্ড গড়তে সাহায্য করতে ২৪ জন তৃণমূল কাউন্সিলারের মধ্যে ১১ জন নিজেদের ‘নির্দল’ হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে এদিন পাঁচজন পদ পাওয়ায় অসন্তুষ্ট বাকিরা। যদিও এখনই এনিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে নারাজ তাঁরা। একইভাবে বিজেপি বোর্ডে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে চাননি সুমালা। তাঁকে ন্যাশনাল আরবান লাইভলিহুড মিশন ও ট্যাক্স মনিটারিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তাঁর মন্তব্য, ‘নতুন কিছু নয়। এসব আগে করা আছে।’
গত ৭ অক্টোবর ইংলিশবাজার পুরসভায় চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব নেন অম্লান। পরবর্তী একমাসের মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল গঠন হওয়ার কথা। সেইমতো গত কয়েকদিন ধরেই পুরসভার অন্দরে চর্চা চলছিল, কবে ভাইস চেয়ারম্যান ও সিআইসি ঘোষণা হবে। কারা ওই দায়িত্ব পেতে চলেছেন? তবে যাই হোক না কেন, বিজেপিকে বোর্ড গড়তে সাহায্য করা তৃণমূলের টিকিটে জেতা নির্দল শিবির থেকেই যে ভাইস চেয়ারম্যান ও সিআইসি হবেন, তা একপ্রকার নিশ্চিত ছিল। এক্ষেত্রে সুমালার ভাইস চেয়ারম্যানের পদ পাওয়া এতটাই নিশ্চিত ছিল যে, বোর্ড বদলের পরও ভাইস চেয়ারম্যানের চেম্বারের বাইরে থেকে খোলা হয়নি তাঁর নেমপ্লেট।
এদিন নির্দল শিবিরের বাইরেও তৃণমূলের টিকিটে জেতা কয়েকজন কাউন্সিলার ভাইস চেয়ারম্যান ও সিআইসির শপথ গ্রহণের সময় পুরসভার অধিবেশন কক্ষে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাবলা সরকারের স্ত্রী চৈতালি ঘোষ সরকার। যদিও তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে এদিন পুরসভায় ছিলেন না প্রাক্তন চেয়ারম্যান, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের টিকিটে জেতা কাউন্সিলার কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। তিনি বলেন, এদিন পুরসভায় যা হয়েছে, সে ব্যাপারে আমি কিছু জানতাম না।



