


গোপাল সূত্রধর, বালুরঘাট: প্রচার শুরুর আগে বোল্লা কালীর শরণে সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকে প্রার্থীদের আনাগোনা বেড়েছে বালুরঘাট ব্লকের ঐতিহ্যবাহী বোল্লা রক্ষাকালী মায়ের মন্দিরে। তপনের বিদায়ী বিধায়ক তথা এবারের বিজেপি প্রার্থী বুধরাই টুডু প্রথমেই বোল্লাকালী মন্দিরে পুজো দিয়ে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার তপনের তৃণমূল প্রার্থী চিন্তামণি বিহাও পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেছেন। শুক্রবার বোল্লা মায়ের শরণাপন্ন হলেন কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকার। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকে মন্দিরে ‘ভক্তের’ সমাগম বেড়েছে।
এদিন বোল্লা মন্দিরে পুজো দিয়ে কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু জোর প্রচার শুরু করেন। একের পর এক গ্রাম পঞ্চায়েতে যাচ্ছেন বিজেপির এই লড়াকু নেতা। কর্মীদের সঙ্গে পুনর্মিলন করে বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি প্রচার সারছেন। কখনো নিজে বাইক চালিয়ে প্রচার করছেন, কখনো আবার হেঁটে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ করতে দেখা যাচ্ছে শুভেন্দুকে। এদিন কুমারগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী তোরাফ হোসেন মণ্ডলের গ্রাম পঞ্চায়েত জাকিরপুরে ঘুরে প্রচার সারেন বিজেপি প্রার্থী। তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়কের করতে না পারা নানা কাজ তিনি জনসমক্ষে তুলে ধরছেন। কুমারগঞ্জ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা। এখানে প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ এই সম্প্রদায়ের। তাই সংখ্যালঘু নেতাকর্মীদের নিয়ে এই এলাকায় প্রচারে থাকছেন শুভেন্দু। বিজেপি প্রার্থী বলেন, এখানে সংখ্যালঘু ভোটার আছে বলে তৃণমূল জিতবে, একথা একেবারে ভুল। কারণ, বিদায়ী বিধায়ক গত ১০ বছরে এখানকার বাসিন্দাদের জন্য কিছু করেননি। হিন্দু-মুসলিম সকলেই রাজ্য সরকারের অনিয়ম দেখেছে। তাই আমার সঙ্গে সংখ্যালঘুরাও রয়েছেন।
অন্যদিকে, এদিন দলীয় কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন তৃণমূল প্রার্থী তোরাফ। তিনি বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, বিজেপি প্রার্থী এই বিধানসভার জন্য কী করেছেন যে, মানুষ তাঁকে ভোট দেবেন? হঠাৎ করে ভোটে দাঁড়িয়ে প্রচার করলেই ভোটে জয়ী হওয়া যায় না। তোরাফের আশা, কুমারগঞ্জের জন্য যা উন্নয়ন করেছি, তা দেখেই মানুষ আমাকে ভোট দেবে।