


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: জামুড়িয়া বিধানসভার আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা জোড়জানকি। এই এলাকার মানুষ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে একচেটিয়া ভোট দিয়েছিল বিজেপিকে। নিজেদের সেই গড়েই প্রচারে গিয়ে হোঁচট খেল বিজেপি। প্রার্থী প্রচারে আসবেন মঙ্গলবার। বিজেপি নেতারা টোটোয় করে পতাকা এনে বাঁধতে শুরু করেন গ্রামে। সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের আদিবাসী মেয়েরা বেরিয়ে এসে প্রতিবাদ করেন। তাঁদের অভিযোগ, তাঁদের কষ্টের সময়ে কেউ খোঁজ রাখে না। ভোট নিয়ে চলে যায়। আবার ভোট এসেছে তাই প্রচারে এসেছে। নিজেদের গড়েই এহেন বিদ্রোহের আগুন দেখে কিছুটা হতচকিত হয়ে পড়েন বিজেপি কর্মীরা। প্রার্থী ক্ষোভের কথা শুনবে, এই আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতে কোনোরকমে সামলান নেতারা।
জামুড়িয়ায় এবার বিজেপি প্রার্থী করেছে বিজন মুখোপাধ্যায়কে। রানিগঞ্জ বিধানসভায় পরাজয়ের পর কর্মীদের পাশে না থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই তিনিই দিলেন মানুষের পাশে থাকার বার্তা। এদিন প্রার্থী আসতেই এলাকার পুরুষ মহিলারা তাঁকে ঘিরে ধরেন। সুখী মাঝি প্রশ্ন করেন, একশো দিনের কাজ করেছি টাকা পাইনি। এক বৃদ্ধা বলেন, সরকারি বাড়ি পাচ্ছি না। বাড়ির অবস্থাগুলো দেখুন। সুখী মাঝি আরও বলেন, ভোটের সময়ে সবাই আসে। তারপর কেউ খবর রাখে না। আমরা একশো দিনের কাজের টাকা পাইনি। জল কিনে খেতে হচ্ছে। টাকা কোথায় পাব। ক্ষোভ প্রশমিত করতে চিকিৎসক প্রার্থী বলেন, আপনারা আমার ফোন নম্বর রাখুন। কোনো সমস্যা হলে ফোন করবেন। আমি চিকিৎসক মানুষ। সৎপথেই যথেষ্ট অর্থ উপার্জন করেছি। আমি চেষ্টা করব আপনাদের সমস্যা মেটাতে।
পড়াশিয়া পঞ্চায়েত এলাকার গ্রাম জোড়জাঙ্কি। সেখানের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি উদিপ সিংই আবার জামুড়িয়া পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ। তিনি বলেন, গত লোকসভা ভোটেও ওই বুথ থেকে আমরা ৩৫৬ ভোটে পিছিয়ে ছিলাম। একচেটিয়া বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন ওঁরা। তারপর বিজেপির কোনো নেতা একবারও ওঁদের খোঁজ নেয়নি। দামোদরে জল প্রকল্প ভেঙে যাওয়ায় এলাকায় প্রবল জলসংকট হয়। আমাদের কাছে অভিযোগ করার পর প্রতিদিন এক ট্যাঙ্কার করে জল পাঠাতাম। ওঁদের বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ হয়েছে।
বিজেপি প্রার্থী বিজন মুখোপাধ্যায় বলেন, আমার কাছে কেউ একশো দিনের টাকা না পাওয়া, আবাস যোজনার বাড়ি না পাওয়ার কথা বলেননি। জামুড়িয়ারজুড়ে মানুষ ন্যূনতম নাগরিক পরিষেবা পায়নি। আমার কাছে তাঁরা নিজেদের সমস্যা তুলে ধরছেন।