সুমন তেওয়ারি,আসানসোল: বুধবার জেলাশাসক অফিসে মনোনয়ন করেছেন আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পল। রাজ্য বিজেপির অতি পরিচিত মুখ তিনি। ২০২১ সালে এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েই বিধায়ক হয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশনে জমা করা তাঁর হলফনামায় ধরা পড়েছে বহু পরিবর্তন। সোনার দাম এখন অগ্নিমূল্য। সেই জায়গায় ৮৩০ গ্রাম সোনার মালিক অগ্নিমিত্রা। যার বর্তমান বাজার দর প্রায় ১ কোটি ১১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৬১৯ টাকা। এরচেয়েও তৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ২০২১ সালের হলফনামায় ব্যবসায়ীর স্বামীর বার্ষিক আয় উল্লেখ করেছিলেন অগ্নিমিত্রা। এবার হলফনামায় তিনি লিখেছেন, স্বামীর বার্ষিক আয় তাঁর অজানা। যদিও রাজনীতিতে নেমে তাঁর বার্ষিক আয় বিপুল কমেছে বলেই উল্লেখ করেছেন এক সময়ের খ্যাতনামা ফ্যাশান ডিজাইনার।
অগ্নিমিত্রার মতোই ২০২১ সালের চেয়ে ২০২৬ সালে এসে আয় কমেছে আসানসোল উত্তরের বিজেপি প্রার্থী কৃষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে তিনি আয় করেছিলেন প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। এখন তাঁর বার্ষিক আয় ৬ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা। তবে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি পাঁচ বছরে বেড়েছে তিন কোটি টাকা। যদিও সম্পত্তি নয়, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলিই তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখে। এবারও নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনেরই ১১টি মামলা রয়েছে। খুনের চেষ্টা, অপহরণ, চুরি, চুরি করা সম্পত্তি রাখা, সাক্ষীকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানো সহ একাধিক মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
শেষ পাঁচ বছরে রাজ্য-রাজনীতির অতি চর্চিত নাম অগ্নিমিত্রা। পেশায় ফ্যাশান ডিজাইনার থাকা অগ্নিমিত্রার বিজেপিতে উত্থান উল্কাগতিতে। রাজ্য মহিলা মোর্চার সভানেত্রীর পাশাপাশি ২০২১ সালে ভোটে লড়ে প্রথমবার বিধায়ক হন তিনি। তারপর ২০২২ সালের আসানসোল লোকসভা উপনির্বাচনে তিনি বিজেপির প্রার্থী হন। পরে ২০২৪ সালে মেদিনীপুর লোকসভা আসনেও দল তাঁকে প্রার্থী করে। দু’বার পরাজিত হলেও রাজ্য-রাজনীতিতে তিনি বিরোধী নেত্রী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যান। পাঁচ বছর পর তাঁর আর্থিক কী পরিবর্তন হল, তা নিয়ে মানুষের আগ্রহ রয়েছে। সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসাবে দেখা গিয়েছে, আগের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের স্থায়ী ঠিকানা হিসাবে দেখিয়েছিলেন কলকাতার বালিগঞ্জে তাঁর শ্বাশুরবাড়ি। এবার নির্বাচনে আসানসোলে নিজের বাবার ঠিকানাকেই নিজের ঠিকানা হিসাবে উল্লেখ করেছেন। গত নির্বাচনে তিনি জানিয়েছিলেন, ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে ব্যবসায়ীর স্বামীর উপার্জন ছিল ১ কোটি ২৮ লক্ষ ১৪ হাজার ৩০০ টাকা। এবার তিনি উল্লেখ করেছেন তাঁর স্বামীর রোজগার তাঁর জানা ‘বর্তমান’কে হোয়াটস অ্যাপ কলে তিনি জানিয়েছেন, শেষ পাঁচ বছর রাজ্য সরকার আমার বিরুদ্ধে ২১টি মামলা রুজু করেছে। শ্বাশুরবাড়িতে বউমার নামে শমন গেলে বিড়ম্বনা বাড়ত। তাই বাবার ঠিকানাকেই নিজের ঠিকানা করে নিয়েছি।