একাংশ মণ্ডল নেতার কাজে অস্বস্তিতে বিজেপি শিবির, কালীপুজোর পর বৈঠক
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: রাজ্য নেতৃত্বের বারবার সতর্কবার্তা সত্ত্বেও হুঁশ ফিরছে না বিজেপির মণ্ডল স্তরের একাংশ নেতা-কর্মীর। শিলিগুড়ি শহর, ডাবগ্রাম- ফুলবাড়ি, এনজেপি, কাওয়াখালি, মেডিকেল মোড় সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বিজেপির মণ্ডল স্তরের নেতা-কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ, কাটমানি এবং বিভিন্ন অনৈতিক কাজের অভিযোগ ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দলের অন্দরেই বাড়ছে ক্ষোভ ও অস্বস্তি। 

Advertisement

সম্প্রতি এনজেপি মোড় বাজার এলাকায় এক বালি ব্যবসায়ীর ট্রাক আটকে যুব মোর্চার এক মণ্ডল নেতার বিরুদ্ধে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, ওই ব্যবসায়ীর গাড়ি আটকে টাকা দাবি করা হয়। পরবর্তীতে ওই বালি ব্যবসায়ীর সঙ্গে অভিযুক্ত নেতার একটি টেলিফোনে কথোপকথন সামনে এসেছে। সেই কথোপকথনে টাকা ফেরত দেওয়া এবং আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। যদিও ওই অডিয়ো রেকর্ডিংয়ের সত্যতা ‘বর্তমান’ যাচাই করেনি। 
তবে এই একটি ঘটনাই নয়, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকা ও শিলিগুড়ি শহর লাগোয়া বিভিন্ন এলাকায় বিজেপির মণ্ডল স্তরের একাংশ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়ে দলের অন্দরেই আলোচনা শুরু হয়েছে। বালি-পাথরের ব্যবসা থেকে কমিশন আদায়, কাটমানি, বিভিন্ন সংস্থায় কর্মী নিয়োগের নামে টাকা নেওয়া এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের মতো অভিযোগ উঠছে। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশের অভিযোগ, বিতর্কিত নেতাদের কেউ কেউ নিজেদের বিধায়ক ঘনিষ্ঠ বা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। বিজেপির এক জেলা নেতা বলেন, এতে দলের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনই সংগঠন শক্তিশালী করার উদ্যোগও ধাক্কা খেতে পারে। এই ধরনের অভিযোগের কথা সরাসরি অস্বীকার করেননি বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অরুণ মণ্ডল। তিনি বলেন, এ ধরনের বিতর্কিত অভিযোগ যাতে না ওঠে, সেই বিষয়ে প্রত্যেককে সতর্ক থাকতে হবে। সংযতভাবে সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কালীপুজোর পরেই মণ্ডল সভাপতিদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হবে। প্রত্যেককে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে, এমন কোনো কাজে কেউ যেন যুক্ত না হন, যার ফলে দলের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত হয়। 
বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির এক নেতা বলেন, রাজ্য নেতৃত্বের সতর্কবার্তার পরেও মণ্ডল স্তরে একাংশের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। তাই শুধুমাত্র বৈঠক ও সতর্কবার্তায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। বিতর্কিত নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপও করতে হবে।