Bartaman Logo
৯ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাচামিতে তোলা আদায়ের পিছনে বিজেপির ব্লক নেতা! এফআইআর নয় কেন, প্রশ্ন বিরোধীদের

মহম্মদবাজারের পাথর শিল্পাঞ্চলে ডাম্পার পিছু ২০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগে নাম জড়িয়েছে ব্লকের বিজেপি কনভেনার শুভ্রাংশু চৌধুরীর।

পাচামিতে তোলা আদায়ের পিছনে বিজেপির ব্লক নেতা! এফআইআর নয় কেন, প্রশ্ন বিরোধীদের
  • ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: মহম্মদবাজারের পাথর শিল্পাঞ্চলে ডাম্পার পিছু ২০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগে নাম জড়িয়েছে ব্লকের বিজেপি কনভেনার শুভ্রাংশু চৌধুরীর। অভিযোগ, তাঁরই নেতৃত্বাধীন ‘পাঁচামি মাইন অ্যান্ড ক্রাশার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর প্যাডে নির্দেশিকা জারি করে হলুদ রসিদ ছাপিয়ে এই বেআইনি টাকা আদায় চলছিল। মঙ্গলবার ব্লক প্রশাসন ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে সেই তোলাবাজির পর্দাফাঁস করেছে। কিন্তু হাতেনাতে প্রমাণ মেলার পরেও কেন মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হল না, তা নিয়ে কড়া ভাষায় তোপ দাগল বিরোধীরা। চরম অস্বস্তিতে পড়ে অভিযুক্ত নেতার পাশ থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়িয়েছে গেরুয়া শিবির।

Advertisement

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কংগ্রেসের জেলা সভাপতি সঞ্জয় অধিকারী বলেন, ‘আগের সরকারের আমলে রেট ছিল ১০০ টাকা। ডবল ইঞ্জিনের সরকার আসতেই তা একলাফে ডবল হয়ে গেল! কার নির্দেশে এই তোলাবাজি?’ কংগ্রেস সভাপতি আরও বলেন, ‘প্রশাসন অভিযান চালিয়ে তোলাবাজি বন্ধ করেছে ঠিকই, কিন্তু যাঁদের অঙ্গুলি হেলনে দিনের পর দিন এই কাজ চলছিল, অবিলম্বে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে গ্রেপ্তার করতে হবে। রাঘব বোয়ালদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে কি না, সেটাও প্রশাসনের স্পষ্ট করা প্রয়োজন।’
একই সুরে সিপিএমের জেলা সম্পাদক গৌতম ঘোষ বলেন, ‘বীরভূমের পাথর দুর্নীতির সঙ্গে বিজেপি অনেক আগে থেকেই যুক্ত। তৃণমূল এতদিন যা দুর্নীতি করেছে, তাতে বিজেপির নীরব মদত ছিল। এখন সরকারের মদতেই আরও সংগঠিতভাবে এই দুর্নীতি চলছে। প্রশাসন পদক্ষেপের নামে স্রেফ আইওয়াশ করছে। সদিচ্ছা থাকলে প্রশাসন অবিলম্বে এফআইআর করে মাথাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিত।’ প্রশাসন কেন এখনও এফআইআর করেনি? এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষকর্তা জানান, ‘সবেমাত্র ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্ট আমাদের হাতে এসেছে। আমরা সমস্তদিক খতিয়ে দেখছি। আইন অনুযায়ী দ্রুত কড়া পদক্ষেপ করা হবে।’
এদিকে, অভিযুক্ত শুভ্রাংশু চৌধুরীকে নিজের ‘ঘনিষ্ঠ’ মানতে নারাজ বিজেপির জেলা সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘দলের সব কর্মীই আমার কাছে ঘনিষ্ঠ। তবে কেউ তোলাবাজি বা অন্যায় করলে তার দায় একান্তই তাঁর নিজের। অভিযুক্ত নেতার পাশে দল নেই, রাজ্য নেতৃত্বের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই অভিযোগ জানানো হয়েছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘শুভ্রাংশু হয়তো অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে অন্যান্যদের সঙ্গে মিলিত সিদ্ধান্তে এই কাজ করেছেন। কিন্তু বীরভূম জেলা বিজেপি কাউকে টাকা তোলার নির্দেশ দেয়নি। বরং আমরা জানতে পেরেই প্রশাসনের নজরে বিষয়টি আনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সিন্ডিকেট ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছেন, দলও সেই আদর্শেই চলছে। তাই এক্ষেত্রে কাউকে রেয়াত করা হবে না।’
অন্যদিকে, এদিন সিউড়িতে প্রশাসনিক বৈঠকে এসে রাজ্যের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা বলেন, ‘পাচামিতে এখনও দালাল চক্র সক্রিয়। আগের সরকারের লোকেরাই সেখানে ছদ্মবেশে ঢুকে বসে আছে। যারা এই দুর্নীতি করছে, তারা গত ৪ মের পর নিজেদের আখের গোছাতে ও সুবিধার্থে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছে। এর সঙ্গে দলের আদর্শের কোনো যোগ নেই। প্রশাসন কড়া হাতে এই দুর্নীতি দমন করবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ