সংবাদদাতা, ঝালদা : রাজ্যে পালাবদলের পর পুরুলিয়ার বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে একের পর এক বদলের ছবি সামনে আসছে। বাঘমুন্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতের পর এবার তৃণমূল পরিচালিত তুন্তুড়ী-সুইসা গ্রাম পঞ্চায়েতেও অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হয়ে অপসারিত হলেন প্রধান অষ্টমী কুইরী। মঙ্গলবার কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে পঞ্চায়েত কার্যালয়ে অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটি হয়। সেখানে উপস্থিত ১৩ জন সদস্যই প্রধানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে মত প্রকাশ করেন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধানের পদ থেকে অপসারিত হন অষ্টমী কুইরী।
২১ জন সদস্য নিয়ে গঠিত তুন্তুড়ী-সুইসা গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধানের বিরুদ্ধে গত ১৭ আগস্ট অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ছিলেন বিজেপির পাঁচজন, তৃণমূলের ছয়জন এবং কুড়মি সমাজ সমর্থিত নির্দল দুই সদস্য। মঙ্গলবার নির্ধারিত বৈঠকে প্রত্যেকেই উপস্থিত হয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য পঞ্চায়েত অফিস চত্বরে ছিল কড়া পুলিশি নিরাপত্তা। এই অনাস্থা পর্বে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সমীর মাহাতোর অবস্থান। প্রধানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা এবং উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মেলান এবং বিজেপিকে সমর্থনের কথা জানান। অনাস্থা সফল হওয়ার পর সমীর মাহাতো বলেন, “আমি এই পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ছিলাম। কিন্তু উন্নয়নের কাজ কিছুই হচ্ছিল না। মানুষের উন্নয়নের স্বার্থেই প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে আসা হয়েছিল। আজ অনাস্থা সফল হয়েছে, প্রধান অপসারিত হয়েছেন। আমিও বিজেপিকে সমর্থন করছি। এখন যে প্রধান গঠন হোক, মানুষের যাতে কাজ হয়, সেটাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য।” এই ঘটনার পর তুন্তুড়ী-সুইসা গ্রাম পঞ্চায়েতের পরবর্তী প্রধান কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, পঞ্চায়েতের ক্ষমতার পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে তাঁদের মূল লক্ষ্য হবে উন্নয়নমূলক কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান করা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হওয়ার পর পঞ্চায়েতের দখল বিজেপির হাতে যাওয়া এখন কার্যত সময়ের অপেক্ষা।
এদিন অনাস্থা প্রস্তাবের বৈঠককে ঘিরে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি বিভূতি রজক, জেলা কিষান মোর্চার সভাপতি জগদীশ কুমার, ওবিসি মোর্চার জেলা সভাপতি মানিক মাঝি, জেলা সহ-সভাপতি ললিতা মুড়া, জেলা কমিটির সদস্য গৌতম কুইরী, বিজেপি নেতা ফুলচাঁদ কুইরী, উপেন গোপ-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। আগামী দিনে নতুন প্রধান নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তুন্তুড়ী-সুইসা গ্রাম পঞ্চায়েতের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।