Bartaman Logo
২৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আগরপাড়ায় সিপিএমের পার্টি অফিসে হামলা বিজেপির, আক্রান্ত ৭, উত্তেজনা

মঙ্গলবার মধ্যরাতে সিপিএমের এক পার্টি অফিসে হামলার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়াল আগরপাড়ায়। শুধু রাতের অন্ধকারে হামলা নয়, বুধবার দুপুরে সিপিএম কর্মীদের উপরও আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।

আগরপাড়ায় সিপিএমের পার্টি অফিসে হামলা বিজেপির, আক্রান্ত ৭, উত্তেজনা
  • ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: মঙ্গলবার মধ্যরাতে সিপিএমের এক পার্টি অফিসে হামলার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়াল আগরপাড়ায়। শুধু রাতের অন্ধকারে হামলা নয়, বুধবার দুপুরে সিপিএম কর্মীদের উপরও আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এই বাম দলের সাতজন কর্মী অল্পবিস্তর জখম হয়েছেন। সিপিএমের অভিযোগ, বিজেপির নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে পার্টি অফিস ও দলীয় কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ঘোলা থানার পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। 

Advertisement

আগরপাড়ার উষুমপুর বটতলায় সিপিএমের পানিহাটি ২ নম্বর এরিয়া কমিটির অফিস রয়েছে। ওই অফিসটি ৫০ বছরের পুরানো। এলাকার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের রূপরেখা এই  অফিসে বসেই ঠিক হয়। ২০১১ সালে পালাবদলের পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সিপিএমের পার্টি অফিসে হামলা হলেও এই অফিসটি অক্ষত ছিল। অন্যান্য দিনের মতো মঙ্গলবার রাতে সেখানে তালা ঝুলিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন সিপিএমের কর্মীরা। রাতে তারা খবর পান, পার্টি অফিসে হামলা চালানো হচ্ছে। তাঁরা গিয়ে দেখেন অফিসটি যথেচ্ছভাবে ভাঙচুর করা হয়েছে। দরজা, জানালা সহ বিভিন্ন আসবাব ভাঙা। রাতেই দলীয় কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালিয়েছে। তাঁরা ঘোলা থানায় এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ জানান। ওই সময় থানায় ওসি ছিলেন না। তাই তাঁদের সকালে ফের থানায় ডাকা হয়। এদিন সকাল ১১টা নাগাদ তাঁরা থানায় হাজির হন। সেখান থেকে ফিরে পার্টি অফিসে যান। এরপর এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল করেন সিপিএমের কর্মীরা। সেই সময় বিজেপির নেতা-কর্মীরা সেখানে হাজির হয়ে পালটা প্রশ্ন করেন। কেন তাঁদের বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ তোলা হয়েছে? এ নিয়ে প্রকাশ্যেই বচসা ও হাতাহাতি হয়। এরপর ঘোলা থানার পুলিশ এসে কোনোমতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এই ঘটনায় আগরপাড়ায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য তথা পানিহাটির বাসিন্দা শুভব্রত চক্রবর্তী বলেন, রাজ্যে পালাবদলের তিন মাসের মধ্যে অত্যাচারিত মানুষ লালঝান্ডাকে আঁকড়ে ধরায় বিজেপি আতঙ্কিত। তাই তৃণমূলকে ছেড়ে সিপিএমকে টার্গেট করেছে তারা। কাপুরুষের মতো রাতের অন্ধকারে পার্টি অফিসে হামলা করেও ক্ষান্ত হয়নি তারা। এদিন সকালে দলীয় কর্মীদের উপরও তারা হামলা চালিয়েছে। তবে এভাবে আমাদের দমানো যাবে না। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব। বিজেপি নেতা জয় সাহা বলেন, আমাদের অনুমান নিজেরাই পার্টি অফিস ভেঙে প্রচারে থাকতে চাইছে সিপিএম। না হলে ৪ মে’র পর বিজেপির স্বঘোষিত লোকজন একাজ করে থাকতে পারে। পুলিশ আগের মতো দলদাস নয়। তাঁর দাবি, পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে অপরাধীদের খুঁজে বের করুক। তবে বিজেপি কোনোভাবেই পার্টি অফিস ভাঙচুরের সঙ্গে যুক্ত নয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ