Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়ে তৃণমূলের তিরে বিজেপি, ২০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে ভোটগ্রহণ বাঁকুড়ায়

২০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরবন্দিতে বাঁকুড়ায় বিধানসভা ভোট হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই জেলায় চার হাজার বাহিনী চলে এসেছে

নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়ে তৃণমূলের তিরে বিজেপি, ২০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে ভোটগ্রহণ বাঁকুড়ায়
  • ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ২০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরবন্দিতে বাঁকুড়ায় বিধানসভা ভোট হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই জেলায় চার হাজার বাহিনী চলে এসেছে। বাকি বাহিনী দু-একদিনের মধ্যেই বাঁকুড়ায় পৌঁছে যাবে। এত বেশি বাহিনী শেষ কবে জেলায় এসেছিল তা আধিকারিকরা মনে করতে পারছেন না। বাহিনী নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব বিজেপিকে কটাক্ষ করেছে। পদ্ম শিবিরও পাল্টা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রাজ্যের শাসকদলকে বিঁধেছে। 

Advertisement

বাঁকুড়া জেলা নির্বাচন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ভোটের দিন মোট ১৯৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। ইতিমধ্যেই জেলায় ৯৩ কোম্পানি বাহিনী চলে এসেছে। বাকি বাহিনীও শীঘ্রই পৌঁছে যাবে। 
বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, বিধানসভা, লোকসভা এমনকি পঞ্চায়েত নির্বাচনেও কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট হয়েছিল। ওইসব ভোটে সিংহভাগ আসনেই আমরা জয়লাভ করেছি। বিধানসভা ভোটেও যত খুশি বাহিনী মোতায়েন করা হোক। আমরাই ভালো ফল করব। আসলে মানুষের রায়ের উপর বিজেপি-র ভরসা নেই। ফলে তারা বাহিনীর জোরে ভোটে জিততে চাইছে। কিন্তু এর ফল উল্টো হবে। বিক্ষিপ্ত ঘটনা দিয়ে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিচার করলে হবে না। যেকোনো ঘটনাতেই পুলিশ ও প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকে।
বিজেপি-র বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, রাজ্য পুলিশের উপর সাধারণ মানুষের ভরসা করে না। তৃণমূল জমানায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।  ফলে কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয়। সেই কারণে নির্বাচন কমিশন এবাজ্যে বাহিনী দিয়ে ভোট করাচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে ভোট হলে খুনোখুনি ও ছাপ্পা-রিগিং কমবে।  
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতি কোম্পানিতে জওয়ান ও আধিকারিক মিলিয়ে ১০০-১২০ জন থাকেন। বাঁকুড়ায় সাড়ে তিন হাজার বুথ রয়েছে। বুথের পাশাপাশি সেক্টর, ডিসিআরসি, স্ট্রং রুমেও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকে। জঙ্গলমহলের বিধানসভাগুলিতে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে ফেরার পথে ইভিএম বোঝাই গাড়ির সামনে ও পিছনে বাহিনীর জওয়ানরা থাকবেন। বাঁকুড়ায় রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম হয়। তা সত্ত্বেও কমিশন কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। সেই কারণে প্রচারপর্ব থেকেই জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। স্থানীয় থানার পুলিশ আধিকারিকরা উপদ্রুত এলাকায় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে রুটমার্চ করেছেন। পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকরাও এলাকায় গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেছেন। গত নির্বাচনে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, এমন এলাকায় গিয়ে তাঁরা ভোটারদের মনে আস্থা জুগিয়েছেন।         
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, প্রচারপর্বে জেলায় তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোটের দিন আমাদের অগ্নিপরীক্ষা। ভোটদানে বাধা ও হিংসার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে প্রতিটি থানাকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ