Bartaman Logo
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পাচারের ‘হটস্পট’ বিষ্ণুপুর-নোদাখালি, সাইবার প্রতারক, বেআইনি কল সেন্টারের হাতে যাচ্ছে সিম কার্ড

দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সাইবার প্রতারকদের প্রি-অ্যাক্টিভেটেড সিমের জোগান আসছে বিষ্ণপুর, নোদাখালি, মহেশেতলার মতো ডায়মন্ডহারবার পুলিশ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে

পাচারের ‘হটস্পট’ বিষ্ণুপুর-নোদাখালি, সাইবার প্রতারক, বেআইনি কল সেন্টারের হাতে যাচ্ছে সিম কার্ড
  • ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সাইবার প্রতারকদের প্রি-অ্যাক্টিভেটেড সিমের জোগান আসছে বিষ্ণপুর, নোদাখালি, মহেশেতলার মতো ডায়মন্ডহারবার পুলিশ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে। সিম ডিস্ট্রিবিউটরদের একটা অংশ এই কাজে জড়িত বলে অভিযোগ। কয়েক হাত ঘুরে ক্যুরিয়ার মারফত তা 

Advertisement

পৌঁচ্ছে যাচ্ছে সাইবার জালিয়াত ও বেআইনি কলসেন্টারগুলির কাছে। এনসিআরপি পোর্টালে আসা অভিযোগের তদন্তে নেমে দেখা যাচ্ছে, সাইবার জালিয়াতদের ব্যবহার করা সিমগুলি আসছে এসব অঞ্চল থেকেই। কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর ডায়মন্ডহারবার পুলিশ জেলার সাইবার ক্রাইম থানা বুঝতে পারছেন, এই এলাকাগুলিই এখন ‘হটস্পট’। এই কারবারে ইতি টানতে প্রস্তুতি শুরু করেছে পুলিশ। 
এনসিআরপি পোর্টালে বিভিন্ন রাজ্যে হওয়া সাইবার জালিয়াতির অভিযোগ জমা পড়ে। সেখানে দেখা যায়, কোথাও খোয়া গিয়েছে লক্ষ টাকা। কোথাও আবার তা কোটি ছাড়িয়েছে। প্রতারণার জন্য ভিন রাজ্য থেকে ফোন করা হলেও দেখা যায়, সিমটি পশ্চিমবঙ্গের। বিশ্লেষণে ধরা পড়ে, সিমের ডিস্ট্রিবিউটরদের সিংহভাগই কলকাতা লাগোয়া মহেশতলা, রবীন্দ্রনগর, নোদাখালি বা বিষ্ণপুরের। এখান থেকে সিমগুলি সরবরাহ হয়েছে। অন্যের নথি দিয়ে সিমগুলি তোলা হয়েছে। যে কারণে আসল গ্রাহক কে, জানা যাচ্ছে না। প্রতিটি সিমে থাকা কোডের সূত্র ধরে এই এলাকার কয়েকজন ডিস্ট্রিবিউটরকে চিহ্নিত করা হয়। এরপরই এনসিআরপি পোর্টালের তরফে বিষয়টি জানানো হয় ডায়মন্ডহারবার পুলিশ জেলাকে। তারা মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের ‘কিং পিন’ শেখ সানুসহ চারজনকে। তারা সকলেই বিষ্ণপুর ও নোদাখালির বাসিন্দা। 
তদন্তে নেমে অফিসাররা জানতে পারছেন, এই এলাকায় একাধিক সিম ডিস্ট্রিবিউটর এই কারবারে জড়িত। সিম বিক্রির জন্য ব্যাঙের ছাতার মতো মোড়ে মোড়ে দোকান রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সাইবার জালিয়াতরা তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাচ্ছে। সিম ব্যবসায় যুক্ত জানার পর প্রতারকরা প্রস্তাব দিচ্ছে, ব্যবসার প্রয়োজনে একসঙ্গে অনেকগুলি ‘প্রি- অ্যাক্টিভেটেড সিম’ দরকার। এভাবেই প্রতারকরা বিভিন্ন জায়গায় থাকা ডিস্ট্রিবিউটারদের থেকে সিম কেনে। এর জন্য সিম পিছু বাড়তি টাকাও দেয় তারা। অতিরিক্ত টাকার লোভে ডিস্ট্রিবিউটরদের একাংশ সাইবার জালিয়াতদের শর্ত মেনেই সিম বিক্রি করছে। তদন্তকারীরা আরও জেনেছেন, অনেক সময় এই এলাকার বাসিন্দাদের কেউ কেউও অন্যের নথি দিয়ে সিম কিনে তা পাচার করছে সাইবার প্রতারকদের কাছে। বিভিন্ন রাজ্যে চলা বেআইনি কলসেন্টার মালিকদের কাছেও যাচ্ছে এই সিম। রীতিমতো রমরমিয়ে চলছে ব্যবসা। বছর দশেক ধরে চলছে কারবার। কিন্তু পূর্বতন সরকারের আমলে এনিয়ে কোনো তদন্তই হয়নি। এনসিআরপি পোর্টালে জমা পড়া অভিযোগকে তৃণমূল সরকার কোনো গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ। ডায়মন্ডহারবার পুলিশ জেলা যে এভাবে সিম পাচারের ‘হটস্পট’ হয়ে উঠেছে, সেকথা সম্প্রতি আলিপুর আদালতে তুলে ধরেন সরকারি আইনজীবী তারাগতি ঘটকও।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ