নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আড়াই মাসের বেশি বন্ধ থাকার পর অবশেষে সোমবার চালু হল জন্ম এবং মৃত্যু শংসাপত্রের কেন্দ্রীয় পোর্টাল। এদিন বেলা সাড়ে ১২টা থেকে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগ পোর্টালটিতে কাজ করতে পারল। তবে, স্বাস্থ্যভবন সূত্রের খবর, এদিন শুধু কলকাতাতেই এই পোর্টাল চালু হয়েছে। কারণ, অন্যান্য জেলা থেকে সমস্ত পুরসভা এবং পঞ্চায়েতের রেজিস্ট্রারদের নাম এখনো জেলাশাসকরা পাঠাননি। সেগুলি তা পাওয়া গেলে রাজ্যজুড়েই পোর্টাল খুলে দেওয়া হবে। কলকাতা পুরসভায় নতুন করে রেজিস্ট্রার, সাব-রেজিস্ট্রারদের নিয়োগ করা হয়েছে। ফলে, এবার পুরানো জন্ম এবং মৃত্যুর শংসাপত্র প্রদানের কাজ শুরু হচ্ছে। শুধু কলকাতাতেই এমন ১৪-১৬ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। অনেকের স্কুল-কলেজের জন্য জন্ম সার্টিফিকেট দরকার পড়ে। পাসপোর্টসহ অন্যান্য পরীক্ষার ক্ষেত্রেও জন্ম শংসাপত্রের ভেরিফিকেশন দরকার হয়। সেসব এতদিন করা যাচ্ছিল না। এবার, পোর্টাল খুলে যাওয়ায় নাগরিকদের সেই দুর্ভোগ মিটতে চলেছে।
উল্লেখ্য, ২০ মে থেকে জন্ম এবং মৃত্যু শংসাপত্রের পোর্টাল আংশিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। নতুন সার্টিফিকেট ইস্যু করা যাচ্ছিল। কিন্তু পুরানো সার্টিফিকেট অর্থাৎ যাঁরা আগে জন্মেছেন বা মারা গিয়েছেন, সেইসব শংসাপত্র ইস্যু করা হচ্ছিল না। পাশাপাশি পুরানো শংসাপত্রের ডিজিটাল কপিও দেওয়া যাচ্ছিল না। এদিন দুমাস ২১ দিনের মাথায় কেন্দ্রীয় পোর্টাল খুলে দেওয়া হল।
অন্যদিকে, শংসাপত্রে স্বাক্ষরকারী রেজিস্ট্রার নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। কারা রেজিস্ট্রার হবেন, তা নিয়ে নতুন নিয়ম করে দেয় রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর। সেই কারণে কয়েকসপ্তাহ কলকাতার কোনো শ্মশানঘাট এবং কবরখানা থেকে ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা যাচ্ছিল না। নতুন জন্ম শংসাপত্রও দেওয়া যাচ্ছিল না। সম্প্রতি, কলকাতা পুরসভায় নতুন করে রেজিস্ট্রার এবং সাব-রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব বণ্টনে সবুজসংকেত দেয় রাজ্য। কেন্দ্রীয় পোর্টালে ব্যবহার করার জন্য তাঁদের নতুন লগইন আইডি এবং পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়। গত শুক্রবার থেকে শ্মশান এবং কবরস্থান থেকেও ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা শুরু হয়েছে। শুরু হয়েছে নতুন জন্ম শংসাপত্র প্রদানও। এবার, সোমবার থেকে পুরানো সার্টিফিকেট ইস্যু করার কাজও শুরু করা গিয়েছে। তবে, পুর স্বাস্থ্যকর্তারা জানচ্ছেন, যে বিপুল সংখ্যক আবেদনপত্র জমা পড়েছে, তাতে অন্তত কলকাতায় গোটা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হতে আরও এক থেকে দেড় মাস লাগবে।