Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুধ উৎপাদনে রাজ্যে প্রথম দশে, কৃত্রিম গো-প্রজননেও সাফল্য বীরভূমের

দুধ উৎপাদনে রাজ্যে প্রথম দশে, কৃত্রিম গো-প্রজননেও সাফল্য বীরভূমের
  • ২৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: দুধ উৎপাদনের নিরিখে বীরভূম জেলা রাজ্যের মধ্যে প্রথম দশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষের হিসেব অনুসারে গোটা রাজ্যে বীরভূম সপ্তম স্থানে রয়েছে। এই এক বছরে জেলায় দুধ উৎপাদন হয়েছে ৪.৪৯ লক্ষ মেট্রিক টন। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে উৎপাদনের পরিমাণ অনেকটাই বেড়েছে। এনিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও পরিসংখ্যান না থাকলেও জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের দাবি, শেষ অর্থবর্ষে জেলায় দুধের উৎপাদন ৫ লক্ষ মেট্রিক টন ছাপিয়ে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত জেলা প্রশাসনের কর্তারা। অন্যদিকে, গোরুর কৃত্রিম প্রজননেও বীরভূম জেলা অনেক সাফল্য এনেছে। 

Advertisement

মঙ্গলবার সিউড়ির রবীন্দ্র সদনে ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষের কর্মদক্ষতার নিরিখে জেলার ১৯টি ব্লকের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারী কৃত্রিম গো-প্রজনন কর্মীদের আর্থিক পুরস্কার প্রদান সহ সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ গোসম্পদ বিকাশ সংস্থার বীরভূম শাখা ও জেলা প্রাণিসম্পদ বিকাশ বিভাগের তরফে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, সাংসদ অসীত মাল, জেলাশাসক বিধান রায় সহ অন্যান্যরা। জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর পথ নির্দেশিকায় জেলা খাদ্যশস্যের পাশাপাশি প্রাণীজাত খাদ্যের উৎপাদনেও আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে। চাহিদার তুলনায় জেলায় উৎপাদন অনেকটাই বেড়েছে। 
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, শেষ অর্থবর্ষে হিমায়িত গো-বীজের মাধ্যমে ৩ লক্ষ ৩১ হাজার ১৫২টি প্রজনন করা হয়েছে। পাশাপাশি লিঙ্গ নির্ধারিত হিমায়িত গো-বীজের মাধ্যমের প্রজননের সংখ্যা ৩ হাজার ৪৯৪। অন্যদিকে, কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে জেলায় এখনও অবধি ৯৮ হাজার ১৭৬টি বাছুর জন্ম নিয়েছে। তারমধ্যে লিঙ্গ নির্ধারিত হিমায়িত গো-বীজের দ্বারা কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ৩৮৫টি বাছুর জন্ম নিয়েছে। 
অন্যদিকে, জেলায় দুধ উৎপাদনের পাশাপাশি ডিমের উৎপাদনও চাহিদার তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষে জেলায় ৯০.৮৪ কোটি ডিম উৎপাদন হয়েছে। শেষ অর্থবর্ষে উৎপাদনের পরিমাণ ১০০ কোটি ছাপিয়ে যাওয়ার আশা করছেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা। এছাড়াও মাংস উৎপাদনের ক্ষেত্রেও জেলা অনেকটাই স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে। শেষ অর্থবর্ষে আনুমানিক ১ লক্ষ মেট্রিক টন মাংস উৎপাদন হয়েছে বলে প্রশাসনিক কর্তাদের দাবি। 
প্রাণীজাত খাদ্য উৎপাদনে জেলা ক্রমশ স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে। সেইসঙ্গে গোরুর কৃত্রিম প্রজননের মান আরও উন্নত করতেও একাধিক প্রয়াস নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে লিঙ্গ নির্ধারিত হিমায়িত গো-বীজের ব্যবহার শুরু হয়ে জেলায়। সফলতাও যথেষ্ট রয়েছে। তবে আগামীতে প্রজাতির মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গ গো-সম্পদ বিকাশ সংস্থা পথ চলা শুরু করেছে।

সম্পর্কিত সংবাদ