


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ইংরেজদের অত্যাচারের সঙ্গে কমিশনের হয়রানির তুলনা করে তোপ দাগলেন রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। কমিশন আদিবাসীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছে। এমনই অভিযোগ করে তৃণমূলের আদিবাসী সংগঠনের নেতা দেবু টুডু, তারক টুডু জেলাশাসকের অফিসের সামনে অনশনে বসেছিলেন। ন’দিন ধরে অনশন চলার পর এদিন রাজ্য নেতৃত্ব সেখানে হাজির হয়েছিলেন। তাঁরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেন। জেলা প্রশাসন বিষয়টি কমিশনকে জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারপরই এদিন অনশন তুলে নেওয়া হয়। দেবুবাবুকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে, এরপরেও একজন আদিবাসীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেলে রাজ্যজুড়ে লাগাতার আন্দোলন চালানো হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বীরবাহা বলেন, আমরা লড়াই করতে জানি। আদিবাসীরা ইংরেজদের সঙ্গে লড়াই করে তাড়িয়েছে। কমিশন এরকম অত্যাচার করলে ওদের বিরুদ্ধেও একইভাবে পথে নামব। আদিবাসীরা এই ভূমিকে বসবাসের যোগ্য করে তুলেছে। আর তাদেরই বৈধতার প্রমাণ দিতে হবে? এটা কোন নিয়ম? বিজেপি শাসিত রাজ্যে আদিবাসীদের উপর অত্যাচার হয়েছে। বিজেপি নেতারা একবারের জন্যও তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। তাঁরা যদি ভাবেন বাংলাতেও কমিশনকে দিয়ে অত্যাচার করাবেন, তাহলে ভুল ভাবছেন। আমরা পথে নামলে ওঁরা থাকার সাহস দেখাবেন না। এদিনের মঞ্চ থেকে তৃণমূলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আদিবাসীদের বিষয়টি নিয়ে আমরা জেলাশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বিষয়টি কমিশনকে লিখিতভাবে জানাবেন বলেছেন। এরপরও যদি কমিশন আদিবাসীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়, তাহলে আন্দোলন হবে। এদিন অনশন মঞ্চে জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার, বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস সহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূল নেতা বাগবুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশন বিজেপির কথা শুনে চলছে। বৈধ ভোটারদের নামও ওরা তালিকা থেকে বাদ দিতে চাইছে। কিন্তু ওরা জানে না এটা বাংলা। এখানে একজন বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে জোরদার আন্দোলন হবে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমান জেলায় প্রায় ১০ হাজার এসসি ও এসটি ভোটার ‘নো ম্যাপিং’ হয়ে রয়েছেন। তাঁরা নথি দেখাতে পারেননি। তৃণমূল নেত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেন, আদিবাসীদের নথি সংগ্রহ করে রাখার প্রয়োজন নেই। তাঁরা সারাদিন মাঠে কাজ করেন। এত সময় তাঁদের কাছে নেই। বিজেপি মণিপুর, অসমে আদিবাসীদের উপর অত্যাচার করেছে। আদিবাসীদের ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। তারপরও বিজেপি নেতারা একবার তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে যায়নি। বিজেপি নেতারা এখানেও তেমন করার কথা চিন্তা করলে ভুল ভাববে। আদিবাসীরা রাস্তায় নামলে ওরা পালানোর পথ পাবে না। বিজেপির ঝাণ্ডা ধরার লোক থাকবে না।