


সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার জেলার সরকারি হাসপাতালগুলির স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে কর্মসংস্কৃতি ও তাঁদের কাজের শৃঙ্খলা ফেরাতে বায়োমেট্রিক হাজিরার উদ্যোগ শুরু হল। বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে হাসপাতালগুলির এক শ্রেণির স্বাস্থ্যকর্মী কর্মসংস্কৃতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফাঁকিবাজি করে গিয়েছেন। রাজ্যে পালাবদলের পর এবার জেলার হাসপাতালগুলিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে কর্মসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতেই তাঁদের বায়োমেট্রিক হাজিরার আওতায় আনা হচ্ছে বলে দপ্তর সূত্রে খবর। বায়োমেট্রিক সিস্টেম ইনস্টলেশনের জন্য পূর্তদপ্তরের (আইটি) শিলিগুড়ি ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে চিঠি দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। গত বুধবারই জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুমিত গঙ্গোপাধ্যায় এই চিঠি দিয়েছেন।
সিএমওএইচ অফিস, আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল, বীরপাড়া স্টেট জেলারেল, ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি সহ জেলার ১৩টি প্রাথমিক ও ৭টি গ্রামীণ হাসপাতালে বায়োমেট্রিক সিস্টেম ইনস্টলেশনের জন্য ওই চিঠিতে পূর্তদপ্তরের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা ছাড়াও হাসপাতালগুলির চিকিৎসকদেরও ওই বায়োমেট্রিক হাজিরার আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে পালা বদলের পর আলিপুরদুয়ারের বিজেপি বিধায়ক পরিতোষ দাস আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসকদের একাংশের কর্মসংস্কৃতি নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিধায়ক কয়েকদিন আগে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছিলেন বিগত সরকারের আমলে জেলা হাসপাতালের একাংশ সিনিয়র চিকিৎসক নিজেরা ডিউটি না করে জুনিয়র চিকিৎসকদের দিয়ে কাজ করান। এবার এই ফাঁকিবাজি বন্ধ করা হবে। তাৎপর্যের বিষয়, এলাকার বিধায়ক এই হুশিয়ারি দেওয়ার পরেই জেলার হাসপাতালগুলির স্বাস্থ্যকর্মীদের বায়োমেট্রিক হাজিরার আওতায় আনার উদ্যোগ শুরু হয়েছে।
যদিও এবিষয়ে বিস্তারিত জানতে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়কে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মেসেজেরও উত্তর দেননি। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের সূত্র জানান গিয়েছে, কয়েক দিন আগে ভার্চুয়াল বৈঠকে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের নির্দেশেই জেলার হাসপাতালগুলির স্বাস্থ্যকর্মীদের বায়োমেট্রিক হাজিরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।