নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে প্রকৃতির কোলে একটু সময় কাটানোর ঠিকানা হয়ে উঠছে উত্তর ২৪ পরগনার বর্তির বিল। পরিযায়ী পাখির আনাগোনা, বিস্তীর্ণ জলাভূমি, সবুজ প্রান্তর আর নৌকাবিহার— সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এই এলাকা। এহেন বর্তির বিলকে ঘিরে বড়ো পরিকল্পনা করছে প্রশাসন।0আমডাঙা ব্লকের বেড়াবেড়িয়া পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় সাড়ে ৪৫০ একরজুড়ে এই জলাভূমির বিস্তার। বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখির দেখাও মেলে এখানে। বিলের জলে রয়েছে নানা প্রজাতির মাছ। সেই প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য ধরে রেখেই এলাকাটিকে ‘অ্যাকোয়া বায়ো-ডাইভারসিটি পার্ক’ হিসাবে গড়ে তোলার চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে বলে খবর। ইতিমধ্যে বিল সংলগ্ন প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তার দু’পাশ সবুজে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। সরকারি সহযোগিতায় সেখানে প্রায় ৩ হাজার দেশীয় ও পরিবেশবান্ধব গাছ লাগানোর টার্গেট নেওয়া হয়েছে। ৫০টি কৃষ্ণচূড়ার চারা রোপণের মাধ্যমে শুরু হয়েছে কর্মসূচি। আগামী ৩-৪ বছর ধরে ধাপে ধাপে গাছ লাগানো হবে। স্থানীয়দের মতে, গাছগুলি বড়ো হয়ে উঠলে রাস্তার দু’পাশে তৈরি হবে সবুজ করিডর। তাতে এলাকার সৌন্দর্য বাড়ার পাশাপাশি পাখি, প্রজাপতি ও মৌমাছির মতো প্রাণীর আস্তানা তৈরি হতে পারে। তবে এখানে সন্ধ্যার দিকে নেশাড়ুদের আনাগোনা বাড়ে বলে অভিযোগ। তাছাড়া, চোরাগোপ্তা মদ-গাঁজাসহ বিভিন্ন নেশার সামগ্রী বিক্রি হয় বলেও অভিযোগ। তবে এই জলাভূমিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই স্থানীয়দের একাংশের আয়ের সংস্থান হয়েছে। নৌকায় পর্যটকদের জলাভূমিতে ঘুরিয়ে আয় করছেন তাঁরা। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন ছবি তুলতে। হচ্ছে ফটোশ্যুটও। তবে বছরের একটা বড়ো সময় বিল সংলগ্ন এলাকায় ধান, পেঁয়াজ সহ নানা চাষ হয়। ফলে পর্যটন, কৃষি, মৎস্যচাষ, জলাভূমির জীববৈচিত্র্য—সবকিছুর ভারসাম্য রেখেই উন্নয়ন চান স্থানীয়রা।



