Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দুষ্কৃতী-সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে বিল, বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি

বাংলায় কার্যকর হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বিল। সরকারের নতুন পদক্ষেপে সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা। বিস্তারিত পড়ুন।

দুষ্কৃতী-সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে বিল, বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি
  • ২৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার বাংলায় কার্যকর হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি)। আগামী সোমবারই এই সংক্রান্ত বিল আনছে বাংলায় ক্ষমতায় আসা প্রথম বিজেপি সরকার। সব ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায়ের মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এই নয়া বিধি। যা সংঘের চিরকালীন এজেন্ডা। তাৎপর্যপূর্ণ হল, ওই একইদিনে বিধানসভায় আসতে চলেছে যোগী মডেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল। অপরাধ করলে শুধু জেল-জরিমানা বা ফাঁসির মতো সাজা নয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামে তোলা হবে। বাজেট অধিবেশনেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারের অভিমুখ নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন—‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা হিসাব।’ এই বক্তব্যের সাতদিনের মধ্যে নতুন দু’টি বিল সামনে এনে সরকার বুঝিয়ে দিল, প্রত্যেক নাগরিককে অভিন্ন বিধির মাধ্যমে এক সারিতে দাঁড় করানোর পাশাপাশি, সমাজবিরোধী-দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে চরম অবস্থান নেওয়া হবে।

Advertisement

বিজেপি সরকার বাংলায় ক্ষমতায় এসেছে দু’মাস। আর এতদিনে গুজরাত, উত্তরাখণ্ড বা অসম যা করেছে, সেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বিধানসভার কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংক্রান্ত বিল আনা হবে। সোমবার বিধানসভার অধিবেশনে এই বিল নিয়ে আলোচনা হবে। পশ্চিমবঙ্গে এই আইন কার্যকর হলে জনমানসে কতটা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে, সেটাই কৌতূহলের। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণেও উঠে এসেছিল ইউসিসি। শাসক পক্ষের দাবি, নারীদের ক্ষমতা বাড়বে, ধর্মনিরপেক্ষতার পরিসর বৃদ্ধি পাবে ও সামাজিক সংস্কার হবে। এ বিষয়ে পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ বলেন, সোমবার বিলটি আলোচনার জন্য বিধানসভায় পেশ করা হবে। এর বাইরে এখনই কিছু বলব না। তৃণমূল বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম বলেন, জনগণের মতামত নিয়ে বিলটি কার্যকর করলে বোধহয় ভালো হত। হাতে পাওয়ার পর বিলটি পড়ে দেখব, সরকারপক্ষ ঠিক কী লিখেছে।
একইসঙ্গে সোমবার বিধানসভায় সরকার পেশ করতে চলেছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টিসোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল ২০২৬’। ইতিমধ্যেই যা উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশে কার্যকর হয়েছে। এটি অবশ্য যোগীরাজ্যে বুলডোজার আইন বলেই পরিচিত। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে থাকা স্বরাষ্ট্র দপ্তরের আনা এই বিলে অবশ্য বুলডোজারের কথা বলা নেই। এর মূল বক্তব্য হল, অপরাধ করলে শুধু শাস্তি নয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গ জন নিরাপত্তা ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘অ্যান্টিসোশ্যাল’ বা সমাজবিরোধী কারা। সেখানে বলা হয়েছে, যারা ভয় ভীতি প্রদর্শন করে সাধারণ মানুষের জনজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, তারাই দুষ্কৃতী বা সমাজবিরোধী। এতে ‘গুন্ডা’ শব্দের উল্লেখ রয়েছে। বলা হয়েছে, গ্যাং বা সিন্ডিকেট যারা চালাবে, তারাই গুন্ডা হিসাবে চিহ্নিত হবে। বিল অনুযায়ী, সমাজবিরোধীদের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ তল্লাশি করতে পারবে এবং কাগজপত্র, অর্থ-সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা নিলামে তোলা যাবে। সমাজবিরোধীদের এক বছর পর্যন্ত আটক করেও রাখা যাবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, তার সরকার নয়া বিল আনছে। এর মূল উদ্দেশ্যই হল, চোর, গুন্ডা, তোলাবাজ কেউ জেলের বাইরে থাকবে না। আর কেউ যদি জেলে থাকার দু’মাসের পর জামিনে ছাড়া পেয়ে যাবেন মনে করেন, তাহলে তারা ভুল ভাবছে। তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামে তোলা হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ