সংবাদদাতা, ডোমকল: কোম্পানির সাইলেন্সার খুলে বাইকে লাগানো হচ্ছে থার্ড পার্টি মডিফায়েড সাইলেন্সার। যা বাইকে জুড়ে গেলেই শব্দ বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ। ডোমকল মহকুমাজুড়ে দিনরাত এভাবেই বিকট শব্দের বাইক নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রোমিওরা। আর সামনে কোনও রমণী দেখলেই হল, আর রোখে কে? সাউন্ড আর বাইকের গতি দুটোই তখন দ্বিগুণ! শুধু দামি স্পোর্টস বাইক নয়, পুরনো মডেলের বাইকের সাইলেন্সারের পরিবর্তন ঘটিয়েও চলছে শব্দ তাণ্ডব! মাত্র হাজার দেড়েক টাকা থেকেই বাজারে মিলছে সেই সব থার্ড পার্টি সাইলেন্সার। খরচ যাই হোক না কেন, গাড়ির সাইলেন্সার থেকে সিংহের গর্জনের মতো শব্দ তৈরি করতে টাকা-কড়ি খরচ করতেও পিছুপা হচ্ছে না তারা। মহকুমাজুড়ে এদের অত্যাচারেই কার্যত তটস্থ পথচারীরা।সাইলেন্সার মডিফিকেশন কি? কীভাবেই বা বদলানো যাচ্ছে বাইকের শব্দ? খোলাসা করলেন ডোমকলের এক গ্যারেজ কর্মী। তিনি জানালেন, বাইকের সাইলেন্সার মডিফিকেশনের দুটো পদ্ধতি রয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে, বাইকের ডিবি কিলার পরিবর্তন। আর অপরটি হচ্ছে বাইকের সঙ্গে কোম্পানি থেকে মেলা সাইলেন্সার খুলে থার্ড পার্টি সাইলেন্সার লাগানো। তিনি আরও জানান, ডিবি কিলার হল বাইকের একটি ডিভাইস, যেটি বাইকের সাউন্ড কমাতে সাহায্য করে। সেটি খুলে নিলে একধাক্কায় সাউন্ড অনেকটা বেড়ে যায়। অন্যদিকে, বাজারে বিভিন্ন থার্ড পার্টি কোম্পানির সাইলেন্সার পাওয়া যায়। দাম শুরু হয় হাজার দেড়েক টাকা থেকে। সাধারণত কম দামের সাইলেন্সারগুলি থেকেই বিকট শব্দ তৈরি করা যায়। বেশি দামের সাইলেন্সারগুলি সরকারি আইন অনুসারে শব্দবিধি মেনে বানানো হয়। কিন্তু এই ধরনের কম দামি সাইলেন্সারগুলিতে কোনও শব্দবিধি মানা হয় না। বাইকের শব্দ পরিবর্তনের কারণে শুধু যে বাইকের ক্ষতি হয় তাই নয়, সেক্ষেত্রে তেল খরচও হয় বেশি। তবে, তাতে খুব একটা যায় আসে না রোমিওদের। তাদের কাছে বাইক সিংহের মতো গর্জন করলেই হল।
Advertisement
বাইকের গ্যারেজগুলিতে অনায়সে করানো যায় এই মডিফিকেশন। গ্যারেজে কিছু টাকা খসালে, সাইলেন্সার কেটে ভিতর থেকে শব্দ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র(ডিবি কিলার) বের করে কিংবা পুরো সাইলেন্সার পরিবর্তনের মাধ্যমেই করা যায় শব্দ বদল। আর এই শব্দ বদলের জেরেই কাঁপছে গলি থেকে রাজপথ সর্বত্র। অনেকক্ষেত্রে আবার স্কুলের সামনে গিয়েও বাইকে বিকট আওয়াজ তুলে দাপাচ্ছে রোমিওরা। জলঙ্গির বাসিন্দা সাজিদুল রহমান বলেন, প্রতিদিন কিছু ছেলে সকাল, সন্ধ্যা রাস্তার উপর দিয়ে ঝড়ের গতিতে বিকট আওয়াজ তুলে ছুটে বেড়াচ্ছে। তাদের বাইকের শব্দে কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছে। শিশু, বয়স্ক মানুষদেরও সমস্যা হচ্ছে। পুলিস-প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করব এই ধরনের বাইক আটকাতে যেন আরও সক্রিয় হয় তারা।
এবিষয়ে মহকুমার এক পুলিস আধিকারিক বলেন, এই ধরনের সাইলেন্সার মডিফিকেশন কিংবা পরিবর্তন ঘটিয়ে বিকট আওয়াজ তুলে রাস্তায় বেরলে বাইক আটকে জরিমানা করা হচ্ছে ও কেস দেওয়া হচ্ছে।
এবিষয়ে মহকুমার এক পুলিস আধিকারিক বলেন, এই ধরনের সাইলেন্সার মডিফিকেশন কিংবা পরিবর্তন ঘটিয়ে বিকট আওয়াজ তুলে রাস্তায় বেরলে বাইক আটকে জরিমানা করা হচ্ছে ও কেস দেওয়া হচ্ছে।



