Bartaman Logo
১২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রীর জেলায় ‘বিকশিত ভারত জি রামজি’ ২২৩টি পঞ্চায়েতের মধ্যে স্কিম চালু মাত্র ১১৬টিতে

মুখ্যমন্ত্রীর জেলায় ২২৩টি পঞ্চায়েতে ভিবি-জিরামজি প্রকল্পে এখনও অবধি মাত্র ১১৬টি স্কিম অনুমোদন হয়েছে

মুখ্যমন্ত্রীর জেলায় ‘বিকশিত ভারত জি রামজি’ ২২৩টি পঞ্চায়েতের মধ্যে স্কিম চালু মাত্র ১১৬টিতে
  • ২৯ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, কোলাঘাট: মুখ্যমন্ত্রীর জেলায় ২২৩টি পঞ্চায়েতে ভিবি-জিরামজি প্রকল্পে এখনও অবধি মাত্র ১১৬টি স্কিম অনুমোদন হয়েছে। এই স্কিমের উপর নির্ভর করেই পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফেরানোর পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। অথচ পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় কেন্দ্রের এই স্কিম সেভাবে সাড়া পাচ্ছে না। ব্লকস্তর থেকে স্কিম তৈরি না হওয়ায় প্রকল্পটি এখনও পুরোদমে চালু হয়নি। সেকারণে জেলার ২৫টি ব্লকের বিডিওদের পঞ্চায়েত পিছু তিনটি করে স্কিম তৈরির নির্দেশ দিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার।

Advertisement

মঙ্গলবার কোলাঘাটের বলাকা মঞ্চে এই প্রকল্প নিয়ে কর্মশালা ছিল। সেখানে বিডিওদের উদ্দেশে জেলাশাসক বলেন, ২২৩টি পঞ্চায়েত থেকে অন্তত তিনটি করে স্কিম তাড়াতাড়ি গ্রহণ করতে হবে। ওই কর্মশালায় সেচমন্ত্রী অরূপকুমার দাস, জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুছাইত সহ একঝাঁক বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন।
১০০দিনের কাজের প্রকল্প চারবছর বন্ধ থাকার পর কেন্দ্রীয় সরকার গ্রামের মানুষের বার্ষিক ১২৫দিনের কাজের নিশ্চয়তা দিতে এই প্রকল্প চালু করেছে। এর অধীনে ৩১৮রকম কাজের সুযোগ রয়েছে। আবেদন করার ১৫দিনের মধ্যে কাজ না দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বেকারভাতা দিতে বাধ্য প্রশাসন। কাজ শেষ হওয়ার ১৫দিনের মধ্যে টাকা না দিতে পারলে দিতে হবে ক্ষতিপূরণও। ২০২৫সালের ২১ডিসেম্বর কেন্দ্র এই প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। রাজ্য সরকার ২০২৬সালের ৩০জুন এনিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
এই প্রকল্পে গতি আনতে রাজ্যে প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেইমতো মুখ্যসচিব নিয়মিত এনিয়ে জেলাশাসকদের সঙ্গে মিটিং করে চলছেন। কিন্তু, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় আশানুরূপ গতিতে কাজ শুরু হয়নি। এই জেলায় ২৫টি ব্লকে ২২৩টি পঞ্চায়েত রয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলায় মাত্র ১১৬টি কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। কোলাঘাটের বৈঠকে অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) চিত্রদীপ সেন এমনটাই জানিয়েছেন। এরপর কাজে গতি আনতে বিডিওদের নির্দেশ দেন জেলাশাসক এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ)।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ২৫টি পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে অন্তত ১৭টির সভাপতি নেই। ২২৩টি পঞ্চায়েতের মধ্যে অর্ধেকের বেশি প্রধান ইস্তফা দিয়েছেন। পালাবদলের পর এই জেলাতেই পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতিতে ইস্তফার হিড়িক পড়েছিল। ফলে এখন গ্রাম সংসদ সভা আয়োজনে সমস্যা হচ্ছে। সেকারণে স্কিম তুলে আনা নিয়ে সমস্যায় পড়েছে প্রশাসন। 
জেলাশাসক বলেন, অন্নপূর্ণা যোজনায় গৃহকর্ত্রী মাসে তিনহাজার টাকা পেলে এবং গৃহকর্তা ভিবি-জিরামজি প্রকল্পে কাজ পেলে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা কমবে। অনেকেই ভিনরাজ্য থেকে স্ত্রী-সন্তানের কাছে ফিরে আসতে চাইবেন। তাই প্রত্যেক পঞ্চায়েত থেকে অন্তত তিনটি স্কিম তুলে আনতে হবে।  প্রতীকী চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ