সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: কোতুলপুরে বাইক কিনে না দেওয়ায় গলায় দড়ি দিয়ে এক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী আত্মঘাতী হয়েছে। মৃতের নাম অমিত কোটাল(১৯)। বাড়ি কোতুলপুরের লাউগ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার নিজের পড়ার ঘরেই অমিতের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। পুলিস জানিয়েছে, শুক্রবার বাড়িতেই তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। শনিবার বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় চাষি সঞ্জয় কোটালের ছেলে অমিত স্থানীয় বিদ্যালয় থেকে এবার উচ্চমাধ্যমিকে বসত। বাড়িতে সাইকেল থাকলেও বেশ কিছুদিন ধরে সে বাবা ও মায়ের কাছে একটি বাইক কিনে দেওয়ার আবদার করে। কিন্তু, সঞ্জয়বাবু চেয়েছিলেন এবছর একতলা বাড়িটি দোতলা করতে। আগামী বছর ধান বিক্রি করে ছেলের আবদার মেটানোর কথা বলেছিলেন। সম্প্রতি দোতলা নির্মাণের জন্য ইট ও বালি কেনেন। তাতেই অমিতের অভিমান হয়। তা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার রাতে আরও একবার বাইক কিনে দেওয়ার বায়না করে। কিন্তু, বাবা ও মা কেউই এখনই তা কিনে দিতে রাজি ছিলেন না। সেকথা সাফ জানিয়েও দেন। এরপরেই শুক্রবার সকাল থেকে সে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। দরজায় খিল লাগিয়ে নিজের ঘরের মধ্যেই থাকে। পরিবারের লোকজন খেতে ডাকতে গিয়ে দেখেন, দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও সাড়া না মেলায় পরে দরজা ভেঙে অমিতের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিস মৃতদেহ উদ্ধার করে। মৃতের আত্মীয় হেমন্ত রায় বলেন, অমিত বাবা ও মায়ের একমাত্র ছেলে ছিল। সে দু’-একজন বন্ধুর বাইক দেখে তা কিনে দেওয়ার আবদার করেছিল। বাইক কিনে না দেওয়ায় অমিত এতবড় সিদ্ধান্ত নেবে, তা কেউই ভাবতে পারেনি।



