নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সেন্সাসে বাড়ির গণনা শেষ করার জন্য হাতে আর মেরেকেটে এক সপ্তাহ সময় রয়েছে। ইতিমধ্যে বেশিরভাগ জেলায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে বলে খবর। এক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত শীর্ষে রয়েছে কালিম্পং জেলা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মাথায় নিয়েই বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণনার যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করেছেন ইনিউমারেটররা। বিভিন্ন জেলার ব্লকগুলি এক্ষেত্রে দ্রুত কাজ করলেও সার্বিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে একাধিক পুরসভা। আর সেই তালিকায় ‘লাস্ট বয়’ বিধাননগর! এখানে মাত্র ৪১ শতাংশ মতো কাজ হয়েছে। যে জেলার অধীনে এই পুরসভা, সেই উত্তর ২৪ পরগনার হালও খুব একটা ভালো নয়। জেলাভিত্তিক তালিকার শেষের দিকেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। এখানে ৪১ লক্ষের মধ্যে ২৬ লক্ষের (৬৪ শতাংশ) কিছু বেশি বাড়ির গণনা শেষ করা গিয়েছে। কলকাতা পুরসভা এলাকায় বাড়ি গণনার কাজ এগিয়েছে ৬০ শতাংশের সামান্য বেশি। সেন্সাস নিয়ে রবিবারের যে রিপোর্ট, তা থেকেই এই তথ্য উঠে এসেছে।
বিধাননগরসহ কিছু কিছু এলাকার পিছিয়ে থাকার কারণ কী? আধিকারিকদের ব্যাখ্যা, অনেক ইনিউমারেটর তথ্য সংগ্রহ করে আনছেন। কিন্তু যথা সময়ে তা আপলোড করছেন না। তাই রিপোর্টে কম দেখাচ্ছে। সব তথ্য আপলোড করা গেলে এই শতাংশ অনেকটা বেড়ে যাবে। ছোটো এলাকা হওয়ার সুবাদে কালিম্পং জেলা প্রায় গুটিয়ে এনেছে বাড়ির গণনার কাজ। সেখানে ৯২ শতাংশ বাড়ির তথ্য জমা পড়ে গিয়েছে। সেই তুলনায় হাওড়া, বীরভূম, পুরুলিয়ায় রবিবার সকাল পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ মতো কাজ হয়েছে। ৮০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, বাঁকুড়াসহ আরও কয়েকটি জেলায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৮৫ শতাংশ বাড়ির গণনা সম্পন্ন। এই জেলায় একমাত্র জয়নগর পুরসভায় গণনা কর্মীরা ১০০ শতাংশ কাজ শেষ করে ফেলেছেন। এদিন সকালের রিপোর্ট অনুযায়ী, পুজালি ও ডায়মন্ডহারবার পুরসভার কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দুই পুরসভায় ৯৮ ও ৯৬ শতাংশ বাড়ির গণনা সম্পন্ন। রাজপুর সোনারপুর কিংবা মহেশতলা পুরসভায়ও কাজের হার তুলনামূলক কম। এই দুই পুরসভা এলাকায় যথাক্রমে ৫৩ ও ৬৫ শতাংশ বাড়ির তথ্য আপলোড করা হয়েছে। গণনায় হুগলির অবস্থান তালিকার প্রথম দিকে। এই জেলার ৮৮ শতাংশ বাড়ির তথ্য তোলা হয়ে গিয়েছে। কলকাতা বা বিধাননগরকে টেক্কা দিয়ে চন্দননগর কর্পোরেশনে ৯০ শতাংশ বাড়ির তথ্য আপলোড করে ফেলেছেন ইনিউমারেটররা। নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে কাজ করাতেই এই সাফল্য বলে দাবি তাঁদের। তাছাড়া যাঁদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি, তাঁদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তথ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে নিয়েছেন অনেকেই। রাজ্যভিত্তিক পরিসংখ্যান হল, ৩ কোটি ৮২ লক্ষ ২৫ হাজার ৯০৭টি বাড়ির মধ্যে ২ কোটি ৯২ লক্ষের বেশি বাড়ির তথ্য আপলোড করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।