আমেদাবাদ: ১৫ ম্যাচে ২৬ উইকেট। এবারের আইপিএলে নজর কেড়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার। প্রতিটা উইকেটের জন্য খরচ হয়েছে ১৮.১৫ রান। ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন মাত্র ৮.০০। এর মধ্যে ৩৫ বছর বয়সি পেসারের ১২টি উইকেট এসেছে পাওয়ার প্লে’র মধ্যে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর আইপিএল ফাইনালে ওঠার নেপথ্যে বড় অবদান ভুবির। অথচ, একসময় বলের গতির অভাবের কারণে কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে তাঁর সাফল্য পাওয়া নিয়ে ঘোর সংশয় ছিল ক্রিকেট মহলে। সেই তিনিই এখন আইপিএলের ইতিহাসে সর্বাধিক উইকেট সংগ্রহকারীর তালিকায় দু’নম্বরে। নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ২২২টি শিকার।
ভুবির সাফল্যের রহস্য কী? আরসিবি’র বোলিং কোচ ওমকার সালভির কথায়, ‘ও যে বিশ্বমানের বোলার, তা সবারই জানা। প্রত্যেক বোলারেরই নিজস্ব শক্তি রয়েছে। তার উপর ভিত্তি করে পরিকল্পনা সাজায় দলগুলো। ভুবি নতুন বলে আক্রমণে আসে। স্বাভাবিকভাবেই সুইংয়ে বাড়তি জোর দেয়। আবার ডেথ ওভারে ওর বৈচিত্র দারুণ কার্যকরী হয়ে ওঠে।’ ভুবনেশ্বরের তূনের অন্যতম অস্ত্র নাকল বল। ভুবি সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘এর নেপথ্যে প্রচুর পরিকল্পনা রয়েছে। কখন বলটা দেব, উইকেট কেমন আচরণ করছে, সেসব দেখতে হয়। বল সিম বা সুইং করলে, তার ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করি। আবার মন্থর উইকেটে লক্ষ্য থাকে নাকল বল ব্যবহারের।’
প্রাক্তন জাতীয় পেসার প্রভীন কুমারের মতে, ‘সহজেই ব্যাটারকে বোকা বানানোর ক্ষমতা ধরে ভুবি। এত বছর ধরে বল করছে। তারপরও শেখার ইচ্ছে মারাত্মক। এখন তো ঘণ্টায় ১৪০ কিমির বেশি গতিতে বলও করতে পারে।’ আসলে ফিটনেস নিয়ে প্রচুর খেটেছেন ভুবি। সালভির কথায়, ‘অভিজ্ঞতা দিয়ে ও জানে যে, ফিট থাকার জন্য কী করা প্রয়োজন। সেই মতো প্রচুর পরিশ্রম করে যায়। ট্রেনিংয়ে ফাঁকির কোনও জায়গা নেই। তার ফলও পাচ্ছে হাতেনাতে। এই মহূর্তে ভুনেশ্বর যে কতটা ফিট, তা ওর বোলিংয়েই ধরা পড়ছে।’