সাগর রজক, মানিকচক: ১২ দিন ধরে বন্যার জলে বন্দি মালদহের ভূতনির বাসিন্দারা। অভিযোগ, বানভাসিদের কাছে সর্বত্র ঠিকমতো ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে বুধবার দুপুরে ভূতনিতে ত্রাণ বিলি করতে গিয়ে রীতিমতো বেকায়দায় পড়লেন মানিকচকের বিজেপি বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে টিনের ডিঙি নৌকা বেয়ে ত্রাণ নিতে হাজির হন কয়েকশো বন্যা দুর্গত মানুষ। ত্রাণ পাওয়ার জন্য কার্যত হাহাকার শুরু হয়ে যায়। বিধায়ককে ঘিরে একমুঠো খাবারের জন্য বিপন্ন মানুষেরা দাবি জানাতে থাকেন। পাছে ফুরিয়ে যায়, এই আশঙ্কায় প্রত্যেকেই আগে ত্রাণ পেতে রীতিমতো ঝাঁপিয়ে পড়েন বিধায়কের নৌকার উপর। এর জেরে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে অবশ্য সবাইকে শান্ত করে সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিলি করেন বিধায়ক ও প্রশাসনের আধিকারিকরা।
গত দু’সপ্তাহ ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন ভূতনির লক্ষাধিক মানুষ। জলমগ্ন ৬০টিরও বেশি গ্রাম। প্রাণ বাঁচাতে কেউ আশ্রয় নিয়েছেন বাঁধে। কেউ বা ত্রাণ শিবিরে। কেউ আবার বাড়ি না ছেড়ে ছাদের উপর ত্রিপল টাঙিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ আবার বাঁশের টংঘর বানিয়ে প্রাণ বাঁচাতে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসন বানভাসিদের পাশে দাঁড়ালেও ভোগান্তির শেষ নেই। ত্রাণ বণ্টন, অন্যান্য সরকারি সুবিধা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে দুর্গতদের। তাঁদের দাবি, ত্রাণ শিবিরে কিছুটা সরকারি সহায়তা মিললেও বাঁধে বা বাড়ির ছাদে থাকা দুর্গতরা ত্রাণ পাচ্ছেন না। এনিয়ে ক্ষুব্ধ বানভাসিরা। এদিন তারই প্রতিফলন দেখা গেল ভূতনির ভীমটোলায়।
এদিন সিভিল ডিফেন্স এবং সেনার স্পিডবোটে জেলা ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকদের নিয়ে প্রায় ১৫০০ জনের ত্রাণ নিয়ে বের হন মানিকচকের বিধায়ক। উত্তর চণ্ডীপুরের শংকরটোলায় ত্রাণ দিয়ে ভীমটোলা পৌঁছাতেই বদলে যায় ছবি। ভীমটোলার শতাধিক টিনের ডিঙি ধেয়ে আসে বিধায়কের স্পিডবোটের দিকে। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নিয়ে বিধায়কের বোট ঘিরে ধরেন দুর্গতরা। কোনো ডিঙিতে ছিলেন শিশু সহ মহিলারা। এই পরিস্থিতি দেখে বিধায়ক একটি সুরক্ষিত জায়গায় ত্রাণের সামগ্রী নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন। এই সময় বিধায়কের বোট ঘিরে ত্রাণের দাবি জানান দুর্গতরা। বানভাসিদের বক্তব্য, তাঁদের এলাকায় এখনও ত্রাণ পৌঁছায়নি। পরিস্থিতি বেগতিক এবং দুর্ঘটনা আশঙ্কা করে প্রত্যেকে ত্রাণ পাবেন বলে মাইকে আশ্বস্ত করেন বিধায়ক। পরে টিনের ডিঙিতে আসা প্রত্যেকের হাতে ত্রাণ তুলে দেন বিধায়ক। দুর্গতরা ত্রাণের দাবিতে বোট ঘিরে ধরলেও বিজেপি বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল বিক্ষোভের কথা অস্বীকার করেন। বলেন, গত মঙ্গলবারই এখানকার বাসিন্দাদের বলেছিলাম, বুধবার ত্রাণ নিয়ে আসব। সেই মতো এদিন এলাকায়
যেতেই দেখি, গ্রামে জল কম। বোট ঢোকা অসম্ভব। তাই সবাইকে টিনের ডিঙিতে একটি সুরক্ষিত জায়গায় আসতে বলি। কোনো বিক্ষোভ হয়নি। সবাইকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। যদিও দুর্গতরা ত্রাণ নিয়ে সন্তুষ্ট নন। বাম নেতা দেবজ্যোতি সিনহাও বলেছেন, রাজ্য সরকার যতটা দেখাচ্ছে, ততটা দুর্গতদের কাছে সুবিধা পৌঁছাচ্ছে না। তারই প্রমাণ ভীমটোলার মানুষের এদিনের বিক্ষোভ। • নিজস্ব চিত্র।