Bartaman Logo
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভূতনি: আইআইটি কানপুরের দ্বারস্থ রাজ্য

ভূতনিকে বাঁচাতে এবার আইআইটি কানপুরের দ্বারস্থ রাজ্য সরকার। মালদহ জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে আইআইটি পাটনার বিশেষজ্ঞরা সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে গিয়েছেন।

ভূতনি: আইআইটি কানপুরের দ্বারস্থ রাজ্য
  • ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ভূতনি (মানিকচক): ভূতনিকে বাঁচাতে এবার আইআইটি কানপুরের দ্বারস্থ রাজ্য সরকার। মালদহ জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে আইআইটি পাটনার বিশেষজ্ঞরা সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে গিয়েছেন। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর আইআইটি কানপুরের বিশেষজ্ঞদের আসার কথা। তাঁরা খতিয়ে দেখবেন, আদৌ বাঁধ দিয়ে ভূতনিকে রক্ষা করা সম্ভব কি না। কারণ, ইতিমধ্যেই উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে, বিহার থেকে বেরনোর পর গঙ্গা ৬ কিমি বাঁদিকে সরে এসেছে। নদী বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ডানদিকে রাজমহল পাহাড়ের পাথুরে জমি গঙ্গা ভাঙতে পারছে না। সামনে ফরাক্কা ব্যারেজ থাকায় গঙ্গার স্বাভাবিক গতি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই গঙ্গা বাঁদিকে ভাঙছে। আরও ভাঙবে। শুধুমাত্র বাঁধ দিয়ে গঙ্গাভাঙন কতটা ঠেকানো সম্ভব, সেটাই আইআইটি কানপুরের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জেনে নিতে চাইছে রাজ্য। সেক্ষেত্রে যদি বাঁধ দিয়ে ভূতনিকে রক্ষা করা সম্ভব না হয়, তাহলে আর অন্য উপায় কী আছে, সেটাও বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জেনে নিতে চাইছে রাজ্য। 
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে শনিবার রাজ্যের পাঁচ মন্ত্রী মালদহের বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসেন। সঙ্গে ছিলেন সাংসদ ও বিধায়করা। তাঁরা বোটে চেপে ঘুরে দেখার পাশাপাশি ত্রাণশিবিরেও যান। ভূতনি ব্রিজে দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেন। মানিকচক বিডিও অফিসে প্রশাসনের সঙ্গে মিটিং করেন। 
সবটা খতিয়ে দেখার পর রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ বলেন, গঙ্গার ভাঙন মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ জরুরি। সেজন্যই কানপুর আইআইটির বিশেষজ্ঞরা আসছেন। এই নিয়ে পরপর তিন বছর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হল ভূতনি। তাহলে আগের সরকার কি ঠিকমতো বাঁধ তৈরির কাজ করেনি? উত্তরে শংকর বলেন, সমালোচনার বদলে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো এবং যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য। তবে আগের সরকার যে ভূতনির সমস্যা মোকাবিলায় পুরোপুরি ব্যর্থ, তা নতুন করে বলার কিছু নেই। 
স্কুলশিক্ষা ও দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী বলেন, প্রশাসন দিন-রাত এক করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে যা বোঝা গেল, তাঁরাও ভূতনির সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান। এদিন রাজ্যের মন্ত্রীদের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে ছিলেন রতুয়ার তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়। এদিন ফের তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। বলেন, আমার বিধানসভা এলাকার ৫৪টি বুথ জলের তলায়। বর্তমান রাজ্য প্রশাসন খুবই ভালো কাজ করছে। তবে আমি চাই, মালদহ ও মুর্শিদাবাদে গঙ্গার ভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান হোক। 

Advertisement

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ