নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কৃষক, শ্রমিক, খেতমজুরদের কাছে ফিরতে এবার মরিয়া চেষ্টা বামেদের। তাই দিল্লির টিকরি প্রান্তর থেকে কৃষক আন্দোলন আসছে বাংলায়। আগামী ২৬ নভেম্বর সমস্ত কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও সংযুক্ত কৃষক মোর্চা বাংলার প্রতিটা জেলায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে। জেলা শাসকের কাছে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হবে। রাজ্যপালের কাছে ডেপুটেশন জমা দেওয়ারও পরিকল্পনা করেছে। বৃহস্পতিবার বাম শ্রমিক সংগঠন সিটুর রাজ্য দপ্তরে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, দিল্লি থেকে বাংলায় আন্দোলন পৌঁছতে এত সময় লাগল কেন? নাকি বিধানসভা নির্বাচন বড় বালাই?
Advertisement
সংযুক্ত কৃষক মোর্চার নেতা তথা সিপিআই (এমএল) লিবারেশন পলিটব্যুরো সদস্য কার্তিক পাল বলছিলেন, ‘এর আগেও এখানে আন্দোলন করেছি। তীব্রতা কম ছিল। কিন্তু এবার সকলে মিলে ঐক্যের সঙ্গে সংগঠিতভাবে এই আন্দোলনে নামা হচ্ছে।’ বাইরের রাজ্যে কৃষক আন্দোলনের ফল বামেরা ভোট বাক্সে পেয়েছে। এবার কি বাংলাতেও সেই আশায় পথে নামছেন তাঁরা? কার্তিকবাবু বলছিলেন, ‘২০২৬-এর আগে আন্দোলন আরও জোরালো হবে।’ ১০টি দাবি রাখা হয়েছে। কৃষিপণ্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য, কৃষিঋণ মকুব, বিদ্যুত্ বিল বাতিল, শ্রমকোড বাতিল, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বেসরকারিকরণ বন্ধ, ২০০ দিনের কাজে ৬০০ টাকার মজুরি মূলত এই দাবিগুলো থাকছে। এর পাশাপাশি ভীতির সংস্কৃতি, নারী নিরাপত্তার বিষয়গুলোও রাখা হচ্ছে। সিটু রাজ্য সম্পাদক অনাদি সাহু বলছিলেন, ‘এখানে কর্মসূচি চলমান। দিল্লি কেন্দ্রিক কৃষক আন্দোলন সারা দেশে হয়নি ঠিকই, এখন চেষ্টা হচ্ছে, বাংলাতেও বড় করে কৃষক-শ্রমিক আন্দোলন করার। আমরা দেখলাম, আর জি কর ইস্যুতে কীভাবে মানুষ রাস্তায় নামল।’ এমনকী কলকাতার বুকেও কৃষক-শ্রমিক-খেতমজুরদের পথে নামানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বামেরা।



