নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সামনেই ভাষা দিবস। তার আগে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়। বাংলা ও বাঙালিদের কাছে তৈরি হল বিরাট শূন্যতা। বাংলার সঙ্গীত জগৎ থেকে খসে পড়ল একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। আজ, শনিবার এসএসকেএমেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। অন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর হৃদরোগে আক্রান্ত হন। গত সোমবার থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তারপরেই এই প্রবীণ শিল্পীকে আইসিইউতে স্থানান্তরিত করা হয়। খবর পেয়ে তাঁর চিকিৎসার জন্য সবরকম ব্যবস্থা করে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কথা বলেন চিকিৎসকদের সঙ্গে। প্রতুলবাবুর চিকিৎসায় গঠন করা হয় মেডিক্যাল বোর্ড। মাঝে তাঁর শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছিল। এমনটাই জানা গিয়েছিল হাসপাতাল সূত্রে। যদিও আজ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। এই প্রবীণ সঙ্গীতশিল্পীর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। বাংলাকে ভালোবেসে, বাংলা গানকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন তিনি। বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি যতদিন থাকবে ততদিনই বেঁচে থাকবে তাঁর গাওয়া ‘আমি বাংলায় গান গাই’-এর মতো জনপ্রিয় গান। ১৯৪২ সালের ২৫ জুন অবিভক্ত বাংলার বরিশালে জন্ম হয় প্রতুলবাবুর। বাবা প্রভাতচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ছিলেন সরকারি স্কুলের শিক্ষক। দেশভাগের সময়ে প্রতুল সহ পরিবারের বাকি সদস্যদের নিয়ে এপার বাংলায় চলে আসেন তিনি। চুঁচুড়াতে থাকতেন তাঁরা। খুব কম বয়স থেকেই কবিতায় সুর দিতেন প্রতুলবাবু। কবি মঙ্গলচরণ চট্টোপাধ্যায়ের ‘আমি ধান কাটার গান গাই’ কবিতা দিয়ে শুরু। নিজেও গান লিখতেন। কিন্তু সঙ্গীতের জন্য আলাদা করে কোনও শিক্ষা নেওয়া বা প্রশিক্ষণের দিকে যাননি তিনি। জীবনের প্রথম একক অ্যালবাম ‘যেতে হবে’, সাল ১৯৯৪। শেষ অ্যালবাম ‘ভোর’ (২০২২)। তাঁর জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘আমি বাংলায় গান গাই’, ‘আলু বেচো’, ‘ছোকরা চাঁদ’, ‘তোমার কি কোনও তুলনা হয়’, ‘সেই মেয়েটি’, ‘ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ’ ইত্যাদি। আর মাত্র কয়েকদিন বাদেই একুশে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলা ভাষাকে সম্মান জানানোর দিন। কিন্তু তার আগেই বাংলা গানের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পীর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বিশিষ্টমহল।



