Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভরতপুরে যাত্রী তোলা নিয়ে টোটো চালকদের ঝগড়ার অবসান লটারিতে

ভরতপুরে যাত্রী তোলা নিয়ে টোটো চালকদের ঝগড়ার অবসান লটারিতে
  • ১৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, কান্দি: কয়েকমাস আগেও যাত্রী তোলা নিয়ে হাতাহাতি বেধে যেত ভরতপুরের টোটো চালকদের মধ্যে। এমনকী, মারামারির ঘটনায় অনেকেই পুলিসের দ্বারস্থ হতেন। এখন লটারি সিস্টেমে টোটো চালানোয় সেইসব ঝামেলা প্রায় মিটে গিয়েছে। এই পদ্ধতিতে ভোরে হাজিরা দিলেও দিনের রোজগার কোন সময় আসবে, তা ঠিক করে দেয় লটারির নম্বর। এভাবেই বেশ আছেন ভরতপুরের টোটো চালকরা। এই লটারি সিস্টেম এখন অন্য জায়গাতেও প্রচলন হচ্ছে বলে তাঁরা জানালেন।
Advertisement
ভরতপুরে কয়েকশো টোটো চালক রয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন গ্রাম থেকে ভরতপুর ও অন্য জায়গায় যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করেন। একসময় যাত্রী তোলা নিয়ে তাঁদের মধ্যে ঝামেলা বেধে যেত। কিন্তু এখন আর সেরকম ঝামেলা হয় না। কে কখন কোন রুটে টোটো চালাবে, তা লটারির মাধ্যমে ঠিক করা হয়। তাতে অবশ্য ভোরবেলায় হাজিরা দিলেও বিকেল ৩টের সময় প্রথম দূরের ভাড়া পাওয়া যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা নাগাদ সিজগ্রাম মোড়ে ১৮জন টোটো চালকের মধ্যে ওই লটারি করা হয়। প্রথমে চালকদের মধ্যে একজন ১৮টি কাগজ নিয়ে এক থেকে ১৮ পর্যন্ত নম্বর লেখেন। তারপর সেই ‘কুপন’ ভাঁজ করে পিচ রাস্তার উপর ফেলে দেওয়া হল। সবাই একটি করে কুপন তুলে নিলেন। রাজা শেখ সবার শেষে এসেছিলেন। তিনিই প্রথম নম্বরটি পেলেন। অর্থাৎ দিনের প্রথম দূরের ভাড়া তিনিই পাবেন। এরপর লটারির নম্বর অনুযায়ী সমস্ত টোটো রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে পড়ল।
চালক নায়েজ শেখ বলেন, এভাবে টোটো চালিয়ে বেশ ভালো আছি। অন্তত নিজেদের মধ্যে যাত্রী নিয়ে ঝামেলা হয় না। এই এলাকার বেশিরভাগ টোটো চালক এই ব্যবস্থায় টোটো চালান।
অপর চালক মনির শেখ বলেন, কয়েকদিন আগে দিনের প্রথম ভাড়া বিকেল ৫টার সময় পেয়েছিলাম। কিন্তু তাতেও আমার কোনও সমস্যা হয়নি।
টোটো চালকরা জানালেন, লটারি হওয়ার পর যিনি প্রথম নম্বর পেয়েছেন, তিনি দূরের প্রথম ভাড়া পাবেন। এভাবেই পরপর চলতে থাকবে। যিনি একেবারে শেষের নম্বর পেয়েছেন, তিনি কাছাকাছি প্রথম ভাড়া পাবেন। এভাবে প্রথম নম্বর থেকে দূরের ভাড়া ও শেষ নম্বর থেকে কাছাকাছি ভাড়া দেওয়া হবে।
চালকরা জানালেন, এই লটারি সিস্টেম খুব তাড়াতাড়ি জনপ্রিয় হচ্ছে। টোটোচালক সোলেমান শেখ, মনজুর শেখ, সুরাব শেখরা জানান, আমাদের শুরু করা এই লটারি পদ্ধতি এখন ঝগড়া এড়াতে অন্য এলাকার টোটো চালকরাও ব্যবহার করছেন। কয়েকদিন আগেই বড়ঞা থানার জালিবাগান, কুলি, সুন্দরপুর গ্রামে এই পদ্ধতি চালু হয়েছে। খড়গ্রাম থানার মহিষাড় গ্রামেও এই পদ্ধতিতে টোটো চলছে।
সম্পর্কিত সংবাদ