নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাসপোর্ট জালিয়াতির কিং পিন সমরেশ বিশ্বাসের সঙ্গে এবার যোগ মিলল বাংলাদেশের। কারা অবৈধভাবে সীমান্ত পেরোবে তার তালিকা খুলনার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বসে তৈরি করত অভিযুক্ত। গোটা কাজটি করা হতো সমরেশের ‘বস’ হরিদেবপুরের প্লেসমেন্ট সংস্থার মনোজ গুপ্তার নির্দেশমতো। ভারতীয় পাসপোর্ট বানানোর ডেটাবেস তৈরি হতো খুলনায়—তদন্তে নেমে এই তথ্য হাতে পেয়ে চোখ কপালে উঠেছে সিকিউরিটি কন্ট্রোলের অফিসারদের। মনোজের খোঁজে বনগাঁয় তল্লাশি চালানো হলেও, তাকে পাওয়া যায়নি। এদিকে পাসপোর্ট জালিয়াতি কাণ্ডের তদন্তভার বৃহস্পতিবার সিকিউরিটি কন্ট্রোলের হাত থেকে গিয়েছে কলকাতা পুলিসের গোয়েন্দা বিভাগের কাছে।
Advertisement
তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছিলেন অভিযুক্ত সমরেশের বাংলাদেশের কোনও যোগ আছে কি না। তার মোবাইলের কল ডিটেইলস খতিয়ে দেখে তাঁরা জানতে পারেন, বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কয়েকটি নম্বর থেকে তার কাছে নিয়মিত কল এসেছে। আবার বাংলাদেশে বসে সমরেশ কলকাতায় তার ‘বস’কে কল করেছে। এখান থেকে সন্দেহের সূত্রপাত হয়। সমরেশকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বাংলাদেশের খুলনায় তার আত্মীয় থাকে। সেখানে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। ওপার বাংলায় যাওয়া আসা করতে গিয়ে সেখানকার ‘ধুর পার্টি’র (গোপনে সীমান্ত পার করায় যারা) সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সে খুলনা গেলে ওই এজেন্টরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করত নথি তৈরির জন্য। এরপর আত্মীয়ের বাড়িতে বসে বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশে করানোর কারবার শুরু করে। বাংলাদেশি এজেন্টরা খুলনায় তার আত্মীয়ের বাড়িতে লোক নিয়ে আসত। সেখানে নামের তালিকা তৈরির পর সেই লিস্ট নিয়ে ভারতে চলে আসত মনোজের কাছে। ওই সমস্ত বাংলাদেশি নাগরিকরা কবে ভারতে ঢুকবে, তার তারিখ ঠিক করে দিত সমরেশ। তারা ভারতে আসার আগে তৈরি হয়ে যেত নথি। সীমান্ত পেরোনোর পর পয়সা মেটানোর সঙ্গে সঙ্গে হাতে হাতে মিলে যেত আধার, ভোটার প্যান কার্ড। ফলে তাদের থাকার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হতো না। এরপর তৈরি হতো পাসপোর্ট। সমরেশ জেরায় জানিয়েছে, গত ১৪ তারিখ কলকাতা পুলিসের কাছে ধরা পড়ার আগের দিন খুলনা থেকে সে কলকাতায় ফিরেছিল। সে ফিরে আসার পর জনা ২০ বাংলাদেশির সীমান্ত পেরোনোর কথা ছিল। সমরেশ জেরায় তদন্তকারীদের জানিয়েছে, এই কাণ্ডে বেপাত্তা মনোজ প্রথমে আইটি রিটার্নের কাজ করত। আইটি রিটার্নের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তিরা যে নথি জমা দিত, তা ব্যবহার করে প্রথমে জাল আধার প্যান তৈরি করত। পরে পোস্ট অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হওয়ার পর সেখান থেকে নথি সংগ্রহ শুরু করে তারা। হুগলির আরামবাগ পোস্ট অফিসের এক অস্থায়ী কর্মীর কাছ থেকে তারা বিপুল নথি পেত। তদন্তকারীরা জেনেছেন, সমরেশ গ্রেপ্তারের পরই কলকাতা থেকে পালিয়ে মনোজ বনগাঁয় তার বান্ধবীর বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকেই মঙ্গলবার সংস্থার কর্মী দীপঙ্করকে ফোন করে কোন কোন নথি সরাতে হবে, তার নির্দেশ দিয়েছিল। ফোন কলের সূত্র ধরেই পুলিস বনগাঁয় তার বান্ধবীর বাড়িতে গেলেও, মনোজকে পাওয়া যায়নি। অনুমান, পরিচিত কোনও ধুর পার্টির সাহায্যে সে বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে পারে। ফাইল চিত্র



