নয়াদিল্লি: ১৯৭১ সাল। ইয়াহিয়া খানের পাকিস্তানি সেনা কার্যত তাণ্ডব চালাচ্ছে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে। সেই সময় আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে ‘মুক্তিবাহিনী’কে সাহায্যের জন্য সেনা পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। ওই বছরই ১৬ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনার কাছে আত্মসমর্পণ করে পাক সেনা। জন্ম হয় নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যে দেশের জন্ম, ২০২৪ সালে এসে সেই দেশই কি ক্রমশ মৌলবাদের অতলে তলিয়ে যাচ্ছে? এমন প্রশ্নের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক এক সমীক্ষার রিপোর্ট। তাতে উঠে এসেছে, বাংলাদেশের বর্তমান নাগরিকদের কাছে ভারতের তুলনায় অনেক বেশি ‘পছন্দের দেশ’ পাকিস্তান! ৪১ শতাংশেরও বাংলাদেশির কাছে ভারত ‘অপছন্দের দেশ’। সেই তুলনায় মাত্র ২৮ শতাংশের কিছু বেশি মানুষ পাকিস্তানকে অপছন্দ করেন। আরও এক ‘বিজয় দিবসে’র মুখে এমন রিপোর্টে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
Advertisement
শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর ‘পরিবর্তনের’ বাংলাদেশে বিভিন্ন ইস্যুতে সমীক্ষা চালিয়েছিল ভয়েস অব আমেরিকা। তাতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যেই ‘পাকিস্তান প্রীতি’ সবচেয়ে বেশি। ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সিদের ৬২ শতাংশের বেশি পাকিস্তানকে পছন্দ করে। আর ভারতকে পছন্দ করে ৪৭ শতাংশ তরুণ। ৩৫ বছরের বেশি বয়সিরা অবশ্য পাকিস্তানের (৫৫.৭ শতাংশ) থেকে ভারতকে (৫৯.৮ শতাংশ) বেশি পছন্দ করেছেন। কারণ, তাঁদের বেশিরভাগই ভয়াবহ সেই গণহত্যার দিনগুলির সাক্ষী। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের সেই হত্যালীলায় প্রাণ গিয়েছিল কয়েক লক্ষ বাঙালির। তার জন্য কোনওদিন ক্ষমাও চায়নি ইসলামাবাদ। তারপরও বাংলাদেশিদের ‘পাকিস্তান প্রীতি’র কারণ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশে ক্রমশ বিস্তার লাভ করছে মৌলবাদ। আর তার জেরেই ‘পাকিস্তানপন্থী’দের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে পদ্মাপারের দেশে। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে হিন্দুদের উপর একের পর এক নির্যাতনের ঘটনা সামনে এসেছে। রক্ষা পাচ্ছে না হিন্দুদের বাড়ি, মন্দিরও। গ্রেপ্তার করা হয়েছে সন্ন্যাসীকে। আর ক্রমবর্ধমান সেই মৌলবাদেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সমীক্ষায়। তবে আশার আলোও রয়েছে। বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানের আওয়ামি লিগকে যখন ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপর চাপ বাড়াচ্ছে বিভিন্ন সংগঠন, তখন সেদেশের মানুষই উল্টো পথে ভাবছেন। সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ৫৭ শতাংশ বাংলাদেশিই আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে। আর পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ৩৫ শতাংশ।
ভয়েস অব আমেরিকা তাদের সমীক্ষায় এক হাজার নাগরিককে কয়েকটি দেশ নিয়ে ভোট দিতে বলেছিল। ১ থেকে ৫ স্কেলে নির্বাচন। স্কেলের ১ ও ২ মিলিয়ে ‘পছন্দ’ এবং ৪ ও ৫ মিলিয়ে ‘অপছন্দ’ ধরা হয়েছিল। দেখা গিয়েছে, ৫৯ শতাংশ মানুষ পছন্দ করছেন পাকিস্তানকে। আর ভারতকে পছন্দ করছেন ৫৩.৬ শতাংশ মানুষ। পছন্দের তালিকায় সবচেয়ে উপরে রয়েছে আমেরিকা, তারপরই চীন। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মুসলিমদের মধ্যে ৪৪.২ শতাংশ ভারতকে অপছন্দ করেন। অন্যদিকে, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধদের মধ্যে মাত্র ৪.২ শতাংশ মানুষ একই মত প্রকাশ করেছেন। ভারতকে পছন্দের তালিকায় রেখেছেন ৯০ শতাংশের বেশি অ-মুসলিম বাংলাদেশি নাগরিক। অন্যদিকে, পুরুষদের তুলনায় মহিলারা পছন্দের দেশ হিসেবে ভারতকে বেছে নিয়েছেন।
যদিও এর মধ্যেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক জট দ্রুত কেটে যাবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিদেশ উপদেষ্টা মহম্মদ তৌহিদ হোসেন। সোমবার বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম ভারত সরকারের কোনও শীর্ষ আধিকারিক ঢাকায় যাচ্ছেন। তার আগে রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে তৌহিদ বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে এই জটিলতা কেটে যাবে। দুই দেশের বিদেশ সচিবের বৈঠক সফল হবে বলেই আশা করছি।’
ভয়েস অব আমেরিকা তাদের সমীক্ষায় এক হাজার নাগরিককে কয়েকটি দেশ নিয়ে ভোট দিতে বলেছিল। ১ থেকে ৫ স্কেলে নির্বাচন। স্কেলের ১ ও ২ মিলিয়ে ‘পছন্দ’ এবং ৪ ও ৫ মিলিয়ে ‘অপছন্দ’ ধরা হয়েছিল। দেখা গিয়েছে, ৫৯ শতাংশ মানুষ পছন্দ করছেন পাকিস্তানকে। আর ভারতকে পছন্দ করছেন ৫৩.৬ শতাংশ মানুষ। পছন্দের তালিকায় সবচেয়ে উপরে রয়েছে আমেরিকা, তারপরই চীন। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মুসলিমদের মধ্যে ৪৪.২ শতাংশ ভারতকে অপছন্দ করেন। অন্যদিকে, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধদের মধ্যে মাত্র ৪.২ শতাংশ মানুষ একই মত প্রকাশ করেছেন। ভারতকে পছন্দের তালিকায় রেখেছেন ৯০ শতাংশের বেশি অ-মুসলিম বাংলাদেশি নাগরিক। অন্যদিকে, পুরুষদের তুলনায় মহিলারা পছন্দের দেশ হিসেবে ভারতকে বেছে নিয়েছেন।
যদিও এর মধ্যেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক জট দ্রুত কেটে যাবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিদেশ উপদেষ্টা মহম্মদ তৌহিদ হোসেন। সোমবার বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম ভারত সরকারের কোনও শীর্ষ আধিকারিক ঢাকায় যাচ্ছেন। তার আগে রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে তৌহিদ বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে এই জটিলতা কেটে যাবে। দুই দেশের বিদেশ সচিবের বৈঠক সফল হবে বলেই আশা করছি।’



