Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাহিরী-পাঁচশোয়ায় বেআইনি ভাবে পাঁচ লক্ষ টাকার গাছ কেটে সাফ হল

বাহিরী-পাঁচশোয়ায় বেআইনি ভাবে পাঁচ লক্ষ টাকার গাছ কেটে সাফ হল
  • ২০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, বোলপুর: জেলায় প্রাকৃতিক সম্পদ লুট অব্যাহত। অবৈধ বালি, পাথরের পাশাপাশি এবার নির্বিচারে শ’য়ে শ’য়ে গাছ কাটার অভিযোগ উঠল নানুরে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নানুর বিধানসভার বাহিরী-পাঁচশোয়া পঞ্চায়েতের যদুপুরের একটি পুকুর পাড়ে সমস্ত গাছ কেটে সাফ করে দিয়েছে কাঠ মাফিয়ার দল। দিনেদুপুরে ওই গাছ কাটা হলেও খবর নেই পঞ্চায়েতের কাছে। সংরক্ষিত বনভূমি হোক কিংবা ব্যক্তিগত জমি, গাছ কাটতে গেলে বনদপ্তরের অনুমতি লাগে। কিন্তু এক্ষেত্রে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। শাসক দল তৃণমূলের একটা অংশ এই কাজে যুক্ত বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও কারা এই গাছ কাটল, গ্রামবাসীদের তা জিজ্ঞাসা করা হলে তাঁরা মুখে কুলুপ আঁটছেন। স্বভাবতই সেখানে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তা খতিয়ে দেখছে বনদপ্তর। 
Advertisement
জেলার প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতে এই মুহূর্তে অতি সক্রিয় জেলা প্রশাসন।‌ অবৈধ বালিঘাট বন্ধ করতে গত ৯ জানুয়ারি নানুর বিধানসভারই রাউতারা, হোসেনপুর, পালিতপুর এলাকায় হানা দেন জেলাশাসক বিধান রায়। একইভাবে শনিবার পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে লাভপুর ও সিউড়িতেও অভিযান চালান তিনি। এর মাঝে নানুরে নির্বিচারে শ’য়ে শ’য়ে গাছ কাটার বিষয়টি সামনে আসে। দিনেদুপুরে গাছ কাটা হলেও বিষয়টিতে সম্পূর্ণ অন্ধকারে বনদপ্তর। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাহিরী-পাঁচশোয়া পঞ্চায়েতের যদুপুর গ্রামে বিশাল জায়গাজুড়ে রয়েছে একটি পুকুর। পুকুরের চারপাশে রয়েছে নানা ধরনের পূর্ণবয়স্ক গাছ। শনিবার থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে মেশিনের সাহায্যে একের পর এক গাছ কাটা শুরু হয়। প্রভাবশালীদের মদতে এই গাছ কাটা হয়েছে। প্রায় ৬০ টন কাঠ কেটে‌ সেগুলির ট্রাক্টরে করে পাচার করা হয়েছে‌। যার বাজার দর প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা। ওই গাছগুলি সংশ্লিষ্ট এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠী লাগিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ‌অথচ গাছ কাটার বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে বাহিরী-পাঁচশোয়া পঞ্চায়েত।‌ পঞ্চায়েত প্রধান বিবেকানন্দ আচার্য ওরফে সাহেব বলেন, গাছগুলি স্বনির্ভর গোষ্ঠী লাগিয়েছ বলে জানি। তবে সেগুলো কাটা হয়েছে, এইরকম কোনও খবর আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ওই এলাকাটি নানুর বিধানসভার মধ্যে পড়ে। যার পর্যবেক্ষক জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ। বিষয়টিতে তিনিও অন্ধকারে। বলেন, ওই পঞ্চায়েতে গাছ কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই। খবর নিয়ে দেখছি। নাম প্রকাশ করা যাবে না, এই শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, নানুর বিধানসভার বাহিরী, পাঁচশোয়া, সিঙ্গি, কসবা, যজ্ঞনগর প্রভৃতি এলাকায় বেআইনি গাছ কাটা নতুন নয়। ‌এর সঙ্গে শাসক দলের প্রভাবশালীরা‌ যুক্ত। বনদপ্তর বা প্রশাসন যদি পদক্ষেপ না করে, তাহলে আগামীদিনে এই এলাকায় সব গাছ উজাড় হয়ে যাবে। বোলপুরের রেঞ্জ অফিসার জ্যোতিষ বর্মন বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় গাছ কাটার অনুমতি কেউ নেয়নি। ‌তদন্ত শুরু হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ