Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বহরমপুরে নিমেষে হাপিস বুলেট, ধৃত যুবক

বহরমপুরে নিমেষে হাপিস বুলেট, ধৃত যুবক
  • ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: দীর্ঘদিনের শখ দামি বাইক চালানোর। কিন্তু বাবার কাছে বারবার আবদার করে লাভ হয়নি। অগত্যা সোমবার, সরস্বতী পুজোর সন্ধ্যায় একটি বুলেট চুরি করেও হজম করতে পারল না এক যুবক। আপাতত তাঁর ঠাঁই শ্রীঘরে!  
Advertisement
বহরমপুর শহরের ফুঁসফুঁস বারাক স্কয়্যার। পুজোর দিন সন্ধ্যায় মাঠের চারদিকে  বাইকের সারি। কিন্তু রূপেশ ঘোষের টার্গেট ছিল ব্ল্যাক বুলেট। সেটি চুরি করে চম্পট দেয় সে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে চক্কর কাটে। রাতে বাড়ি ফিরে কিছুটা দূরে বাইকটি লুকিয়ে রাখে। একেবারে কাঁচা চোরের কাজ! স্বাভাবিকভাবেই রূপেশের আর শেষ রক্ষা হয়নি। তিন ঘন্টার মধ্যেই পুলিস তাকে পাকড়াও করে। জিজ্ঞাসাবাদের পর বাইকটিও উদ্ধার করা হয়। পরে রূপেশকে গ্রেপ্তার করে বহরমপুর থানার পুলিস। রূপেশের বাড়ি বহরমপুরের চুয়াপুর কদমতলা এলাকায়। তাকে মঙ্গলবার বহরমপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।  পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে,  সরস্বতী পুজো উপলক্ষে বারাক স্কয়্যার ময়দানে যুবক-যুবতীদের মেলা বসেছিল। প্রচুর বাইক মাঠের পাশের রাস্তার ধারে লাইন দিয়ে রাখা ছিল। ময়দানের পাশেই জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের বাংলো। সেই বাংলোতেই ওই বুলেটটি নিয়ে কোনও এক কাজে এসেছিলেন স্থানীয় যুবক। গেটের ধারে বাইকটি রেখে পাঁচ মিনিটের জন্য বাংলোতে ঢোকেন তিনি। তাড়াহুড়োতে হ্যান্ডেল লক করতে ভুলে যান। সেই সুযোগটাকেই কাজে লাগায় রূপেশ। বাইকটি নিয়ে চম্পট দেয় সে। মাঝপথে বাইকের দু’টি নম্বর প্লেট খুলে দেয়। তারপর কাটাবাগান, চালতিয়া ও চুয়াপুর ঘুরে নিজের বাড়ি ফেরে। কিন্তু বাইকটি বাড়িতে ঢোকালে সন্দেহ হতে পারে, এই ভেবে কিছুটা দূরে সেটিকে লুকিয়ে রাখে। সাইকেলের লক বাইকে লাগিয়ে দেয়। যাতে অন্য কেউ নিয়ে পালাতে না পারে। পুলিস সেই লক দেখেই নিশ্চিত হয় বাইকটি চুরির। রূপেশও জেরায় ভেঙে পড়ে সব খুলে বলে দেয়। সে পুলিসকে জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তার দামি বাইক চালানোর শখ। খুব পছন্দের বাইক বুলেট। বাবা সেই শখ পূরণ করতে পারেননি। বাধ্য হয়েই ওই বুলেটটি চুরি করে সে। এটাই তার প্রথম চুরি। 
বহরমপুর থানার এক পুলিস অফিসার বলেন, বাইক চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করি। অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে তাকে অনুসরণ করতে থাকি। শহর সংলগ্ন কয়েকটা এলাকা ঘুরে অবশেষে তার বাড়িতে পৌঁছই। সেখান থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছি। বাইকটিও বাড়ির কিছুটা দূর থেকে উদ্ধার হয়েছে। তিন ঘন্টার মধ্যেই আমরা বাইকটি উদ্ধার করে চোরকে ধরেছি। অভিযুক্ত যুবক নিজের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি গলির মধ্যে বাইকটি লুকিয়ে রেখেছিল। বাইকটি আবার যাতে কেউ চুরি করতে না পারে, সেজন্য সাইকেলের লক বাইকের চাকায় লাগিয়ে রাখা হয়েছিল। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ