Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভৈরব নদীর পাড়ে চলছে দেদার মাটি লুট, মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ বাসিন্দারা

ভৈরব নদীর পাড়ে চলছে দেদার মাটি লুট, মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ বাসিন্দারা
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: হরিহরপাড়ায় অবাধে চলছে মাটি চুরি। মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। স্বরূপপুর এলাকায় ভৈরব নদীর পাড় থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। নদীর পাড় ও পার্শ্ববর্তী মাঠ কেটে গভীর করে দেওয়া হচ্ছে। বিপদের আশঙ্কায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ। জেসিবি নামিয়ে লাগাতার চলছে মাটি চুরি। প্রশাসনের উদাসীনতায় প্রশ্ন তুলছে এলাকার বাসিন্দারা। মাটি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন বাসিন্দারা। মাটি কেটে তা ট্রাক্টরে করে বিভিন্ন ভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ইট তৈরির জন্য এভাবে লাগাতার মাঠের মাটি কেটে নেওয়ায় ভূমিরূপের পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। বর্ষার সময় নদীর জল ছাপিয়ে এইসমস্ত এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 
Advertisement
বহরমপুরের মহকুমা শাসক শুভঙ্কর রায় বলেন, হরিহরপাড়ায় ভৈরব নদীতে মাটি কাটার অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ খতিয়ে দেখছি। ব্লক প্রশাসনকে মাটি কাটার ব্যাপারে পদক্ষেপ করার জন্য বলা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছরই মাটি কাটা হয়। ইদানীং মাটি কাটার পরিমাণ বেড়েছে। যেহেতু প্রতি বছর মাটি লুট করে মাফিয়ারা, তাই কারও কাছে গিয়ে কোনও লাভ হয় না। পুলিস তো সবই জানে। এসবের পিছনে যারা আছে তারা প্রশাসনের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ রেখেই চলে। তাই আমাদের অভিযোগ জানিয়ে শত্রুতা বাড়িয়ে লাভ কী? এভাবে মাটি কাটা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শাসকদলের নেতাদের মদতে মাটি কাটা হচ্ছে বলেই অভিযোগ বিরোধীদের। বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক লাল্টু দাস বলেন, মাটি, বালি, পাথর ও কয়লা। এই নিয়েই তো তৃণমূলের নেতারা বেঁচে আছেন। এক এক মরশুমে এক এক ধরনের ব্যবসা। মাটি কেটে পাচার করতে পারলেই কোটি কোটি টাকা। নেতারা অনেকেই মাটি কাটার জন্য নিজেরাই জেসিবি কিনে নিচ্ছেন। সকলে তা জেনেও মুখ বন্ধ রেখেছেন। পুলিসকে বললে তারাই গিয়ে পাহারা দিয়ে মাটি কাটাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে মুর্শিদাবাদ জেলায় এরপর আর মাটি বলে কিছু থাকবে না। সবদিকে মাটি কাটা চলছে। প্রশাসন জেনেও সম্পূর্ণ নীরব। 
কংগ্রেস নেতা মাহফুজ আলম ডালিম বলেন, প্রশাসনের উচিত সর্বত্র এই মাটি কাটা বন্ধ করা। জেলার অনেক জায়গায় অবাধে মাটি পাচার চলছে। কীভাবে সরকারি জায়গা থেকে মাটি কাটা হচ্ছে সেটাই তো বড় ব্যাপার। অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ দাবি করছি। হরিহরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা মীর আলমগির পলাশ বলেন, আমরা এখনও কোনও অভিযোগ পাইনি। কোনও অভিযোগ পেলে অবশ্যই খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে। তবে মাটি কাটা একেবারেই উচিত নয়। সরকারি নিয়মের বাইরে কেউ যেন মাটি না কাটে। নদীর ধার মানে সংরক্ষিত জায়গা। আমাদের সাবধান হওয়া উচিত। এমনিতেই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত। মাটি কাটা হলে তা বন্ধের ব্যাপারে উদ্যোগী হব।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ